ব্রঙ্কসে গুলিতে নিহত ঘানার কিশোরের শেষকৃত্যে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন মা, চান ছেলের হত্যার বিচার

যুক্তরাষ্ট্রে গত সপ্তাহে গুলিতে নিহত ১৫ বছর বয়সী ঘানার কিশোর জাভিটস ফ্রিমপংয়ের মা ডরিস আদু গিয়ামফি ঘানা থেকে আমেরিকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে জরুরি ভিসা দেওয়ার পর তিনি এই যাত্রা শুরু করেন।
রওনা হওয়ার আগে বিমানবন্দরে বিবিসিকে গিয়ামফি বলেন, ‘আমি আমার ছেলের জন্য বিচার চাই।’ তিনি জানান, তাঁর ছেলে চিকিৎসক হতে চেয়েছিল।
জাভিটস ফ্রিমপং গত বৃহস্পতিবার সকালে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে স্কুলে যাওয়ার পথে ধাওয়া করে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করেনি এবং তদন্ত চলছে। গুলির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজন কিশোরকে খুঁজছে কর্তৃপক্ষ। পলাতক তিন সন্দেহভাজন নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে ধরা পড়েছে।
গিয়ামফি বলেন, ‘আমি আমার ছেলের শেষকৃত্যের পরিকল্পনা করতে আমেরিকা যাচ্ছি।’ ছেলের মৃত্যুর পর সমর্থন ও প্রার্থনার জন্য তিনি সরকার ও শুভানুধ্যায়ীদের ধন্যবাদ জানান।
বিমানবন্দরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন আত্মীয়স্বজন এবং আফ্রিকান ডায়াসপোরা ফোরামের মিশনপ্রধান ড. এরিয়েকা বেনেট।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, গিয়ামফিকে ভিসা দিতে রাজি হয়েছেন ট্রাম্প, যাতে তিনি সশরীরে ছেলের শোক প্রকাশ করতে পারেন।
মামদানি বলেন, একটি সন্তানের হত্যা এমন এক যন্ত্রণা যা কোনো বাবা-মায়েরই সহ্য করা উচিত নয়, ‘হাজার হাজার মাইল দূর থেকে তো নয়ই।’ তিনি বলেন, ‘জাভিটস ফ্রিমপংয়ের মা সশরীরে ছেলেকে বিদায় জানানোর অধিকার রাখেন। আমি মাত্র প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি, এবং তিনি অবিলম্বে তাকে ভিসা দিতে রাজি হয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘পুরো নিউইয়র্ক সিটি এই ট্র্যাজেডিতে শোকাহত।’
ঘানার সরকার এই হত্যার নিন্দা জানিয়েছে এবং জানিয়েছে, বিচার নিশ্চিত করতে তারা ঘটনাটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষকে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে সরকার বলেছে, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে আইনি ও কনস্যুলার সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত।
এই মৃত্যু ঘানা ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশেই ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে এবং আমেরিকায় বন্দুক সহিংসতা নিয়ে বিতর্ক আবার উসকে দিয়েছে। আমেরিকায় পড়তে পাঠানো শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও ঘানার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।



