যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণেই আফ্রিকা লিগ থেকে রুয়ান্ডার সেনা দলকে সরানো হয়েছে, জানাল এনবিএ

রুয়ান্ডার সেনাবাহিনীর অর্থায়নে পরিচালিত বাস্কেটবল দল আর্মে প্যাট্রিওটিক রুয়ান্ডাইজ (এপিআর) বাস্কেটবল আফ্রিকা লিগ (বিএএল) থেকে বাদ পড়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাই কারণ বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল বাস্কেটবল অ্যাসোসিয়েশন (এনবিএ)। গত মার্চে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর সংঘাতে ভূমিকার অভিযোগে রুয়ান্ডার সেনাবাহিনীর ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
এনবিএ আগেই জানিয়েছিল, এপিআর ২০২৬ সালের বিএএল আসরে অংশ নেবে না। তবে দলটিকে সরানোর কারণ এবারই প্রথম প্রকাশ্যে জানাল সংস্থাটি। দুই মার্কিন সিনেটরের অভিযোগের জবাব দিতে গিয়েই এ ব্যাখ্যা এসেছে।
সিনেটররা চিঠিতে বলেছিলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকা রুয়ান্ডা সরকারের কাছ থেকে অর্থ নিলে এনবিএ ‘স্পোর্টসওয়াশিং’-এ সহায়তা করার ঝুঁকিতে পড়বে। গত সপ্তাহে এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সমর্থনের অভিযোগে রুয়ান্ডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র; এম২৩ পূর্ব কঙ্গোর বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। রুয়ান্ডা অবশ্য বিদ্রোহীদের সমর্থনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
গত ২৩ অক্টোবরের চিঠিতে ডেমোক্রেটিক সিনেটর জেফ্রি মার্কলি ও রিপাবলিকান সিনেটর মার্শা ব্ল্যাকবার্ন ২ নভেম্বরের মধ্যে এনবিএর লিখিত জবাব চেয়েছিলেন। তাঁরা প্রশ্ন তুলেছিলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী বিদেশি সরকারের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার ক্ষেত্রে এনবিএর সীমারেখা কোথায় এবং ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে রুয়ান্ডার সঙ্গে অংশীদারত্ব কীভাবে মেলে।
জবাবে এনবিএর উপকমিশনার মার্ক টেটাম বলেছেন, চলতি বছরের শুরুর নিষেধাজ্ঞার পর রুয়ান্ডার দলটিকে বিএএল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে; মার্কিন ক্রীড়া ওয়েবসাইট ইএসপিএন এ তথ্য জানিয়েছে। এনবিএ জানিয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা পর্যন্ত এপিআর নিষিদ্ধই থাকবে।
এপিআর রুয়ান্ডার অন্যতম শীর্ষ বাস্কেটবল দল; ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বিএএলে দেশটির প্রতিনিধিত্ব করে গত বছর তৃতীয় হয়েছিল দলটি। এ বছর তার জায়গায় খেলছে আরএসএসবি টাইগার্স। বিএএল এনবিএ ও বিশ্ব বাস্কেটবল সংস্থা ফিবার যৌথ আয়োজনের প্যান-আফ্রিকান লিগ, যেখানে মহাদেশের ১২টি ক্লাব দল খেলে।
রুয়ান্ডা বিএএলের আনুষ্ঠানিক অংশীদার এবং রাজধানী কিগালির ১০ হাজার আসনের বিকি অ্যারেনায় ফাইনাল আয়োজনের জন্য লিগকে অর্থ দেয়। ২০২১ সালের উদ্বোধনী আসরের পর থেকে একটি ছাড়া সব ফাইনাল ও প্লে-অফ ম্যাচ আয়োজন করেছে রুয়ান্ডা। এনবিএ বিপণন ও অংশীদারত্বের অধিকারের জন্য দেশটির কাছ থেকে বছরে লাখ লাখ ডলার পায় বলে জানা গেছে।
ডিআর কঙ্গো বারবার রুয়ান্ডার এনবিএ, ইউরোপীয় ফুটবল ক্লাব ও ফর্মুলা ওয়ানের সঙ্গে হাই-প্রোফাইল ক্রীড়া চুক্তির নিন্দা জানিয়ে সেগুলো শেষ করার আহ্বান জানিয়েছে। কঙ্গোর অভিযোগ, পূর্বাঞ্চলে সংঘাত চলতে থাকা অবস্থায় এসব চুক্তি রুয়ান্ডার বৈশ্বিক ভাবমূর্তি পরিষ্কার করতে সাহায্য করছে।




