ব্রাসেলসে বহিরাগত বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদন জমা: ইউরোপীয় কমিশনের দুই দশকের সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক সংস্কারের পথে আরও এক ধাপ

ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েনের প্রশাসনিক সংস্কার পরিকল্পনা আরও এক ধাপ এগিয়েছে। সোমবার বহিরাগত উপদেষ্টাদের একটি দল তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যা দুই দশকের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক পুনর্গঠনের রূপরেখা তৈরিতে ব্যবহৃত হবে।
প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সাবেক কমিশন মহাসচিব ক্যাথরিন ডের নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চপর্যায়ের দল। ডেসহ মোট নয়জন বিশেষজ্ঞ এই দলে ছিলেন, যাদের জাতীয় প্রশাসন ও ওইসিডি এবং ওএসসিইর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। দলটি পরস্পর সম্পর্কিত নয়টি সুপারিশ দিয়েছে, যার লক্ষ্য কমিশনকে আরও চটপটে করা এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জের সঙ্গে খাপ খাওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো।
এই সংস্কার প্রক্রিয়াটি ‘লার্জ-স্কেল রিভিউ’ নামে পরিচিত। এর উদ্দেশ্য কমিশনকে আরও দক্ষ করা, বিস্তৃত আমলাতান্ত্রিক কাঠামো সহজ করা এবং প্রতিষ্ঠানটিকে আরও আকর্ষণীয় কর্মস্থলে পরিণত করা।
প্রতিবেদন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভন ডার লেয়েন বলেন, এখন প্রক্রিয়াটি দ্বিতীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রথম পর্যায়ে ১৫টি অভ্যন্তরীণ ওয়ার্কস্ট্রিম চালু ছিল এবং হাজার হাজার কমিশন কর্মীর মতামত ও অবদান নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কার্যকরভাবে ও দ্রুত কাজ করতে পারা দরকার; তার মানে সহজতর পদ্ধতি, স্পষ্টতর কাঠামো এবং বিভাগগুলোর মধ্যে আরও ভালো সহযোগিতা, যাতে কর্মীরা যেখানে সবচেয়ে বেশি পার্থক্য তৈরি হয় সেখানেই মনোযোগ দিতে পারেন।
সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে আলাদা আলাদা বিভাগে আবদ্ধ থেকে কাজ করার সংস্কৃতি থেকে সরে এসে বিভিন্ন ডিরেক্টরেট-জেনারেলের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো, যার মধ্যে বিভাগজুড়ে বিস্তৃত যৌথ পোর্টফোলিওর ধারণাও রয়েছে। পাশাপাশি সচিবালয়-জেনারেলকে ফলাফল তাড়িত করার কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে শক্তিশালী করা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করতে মানবকেন্দ্রিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল, কারণ এই আধুনিকীকরণের আড়ালে শক্তিশালী বিভাগগুলোর বড় ধরনের পুনর্গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোটি কোটি ইউরো ব্যয় তদারক করা কয়েকটি বড় বিভাগের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। এর মধ্যে রয়েছে আঞ্চলিক ও নগর নীতি বিভাগ (ডিজি রেজিও), যা সংহতি নীতি তহবিল তদারক করে এবং ইইউ ব্যয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সঙ্গে যুক্ত; কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগ (ডিজি আগ্রি), কর্মসংস্থান ও সামাজিক তহবিলের বিভাগ (ডিজি এমপ্ল), মৎস্য তহবিলের বিভাগ (ডিজি মারে) এবং গবেষণা ও উদ্ভাবন বিভাগ (ডিজি আরটিডি)।
তবে সোমবার প্রতিবেদন জমা পড়লেও পুনর্গঠন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। ডের প্রতিবেদনটি বাজেট ও জনপ্রশাসন কমিশনার পিওতর সেরাফিনের তত্ত্বাবধানে চলা বৃহত্তর পর্যালোচনায় যুক্ত হবে; ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ তিনি ভন ডার লেয়েনের কাছে চূড়ান্ত সুপারিশ পেশ করবেন।
সেরাফিন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বলেন, বহিরাগত মূল্যায়ন ও কমিশন কর্মীদের মতামত মিলিয়ে সুদূরপ্রসারী পরিবর্তনের পক্ষে একটি ম্যান্ডেট পাওয়া গেছে। ডে বলেন, কমিশন ইতিমধ্যে সংস্কারের ইচ্ছা দেখিয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকে প্রচুর ধারণা এসেছে; এই পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কমিশনজুড়ে পরিবর্তনের পক্ষে একটি বিস্তৃত ঐকমত্য রয়েছে। এর আগে জুলাইয়ে কমিশন কর্মকর্তাদের একটি অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া থেকে প্রাথমিক সুপারিশের একটি সেট তৈরি হয়েছিল, যা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়, বরং বৃহত্তর আলোচনা শুরুর জন্য ছিল।




