অন্তর্বাসে স্তন ক্যানসার হয় না: ভুল ধারণা নিয়ে যা বলছে চিকিৎসাবিজ্ঞান

স্তন ক্যানসার নারীদের অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্যঝুঁকি। ইন্টারনেটে বা লোকমুখে প্রায়ই শোনা যায়, ভুল অন্তর্বাস পরলে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুযায়ী, অন্তর্বাস পরার সঙ্গে স্তন ক্যানসারের সরাসরি কোনো বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির মতে, অতিরিক্ত আঁটসাঁট বা তারযুক্ত অন্তর্বাস পরার কারণে লিম্ফেটিক ড্রেনেজ বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ক্যানসার হয়—এই ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
সামাজিক নানা ট্যাবুর কারণে নারীদের অনেকে অন্তর্বাস নির্বাচনের বিষয়টি এড়িয়ে যান বা ভুল অভ্যাস বজায় রাখেন। তবে ভুল অন্তর্বাস পরলে স্তন ক্যানসার না হলেও স্তনের টিস্যু, ত্বক ও শারীরিক গঠনে নানা ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
অতিরিক্ত আঁটসাঁট বা শক্ত অন্তর্বাস পরলে স্তন ও বুকের পেশিতে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়। এটি স্তনে তীব্র ব্যথা, ত্বকে দাগ এবং স্থায়ী অস্বস্তির কারণ হতে পারে।
একটানা ২৪ ঘণ্টা শক্ত বা অস্বস্তিদায়ক অন্তর্বাস পরে থাকলে স্তন টিস্যুর স্বাভাবিক নমনীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। রাতে ঘুমানোর সময় ঢিলেঢালা পোশাক বা অন্তর্বাস ছাড়া থাকা রক্ত সঞ্চালনের জন্য ভালো বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
খুব ছোট বা খুব বড়—ভুল মাপের অন্তর্বাস পরলে স্তন ঝুলে যাওয়া, কাঁধে ও পিঠে ব্যথা এবং মেরুদণ্ডের গঠনগত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সিনথেটিক বা নন-ব্রিদেবল কাপড়ের অন্তর্বাস পরলে স্তনের নিচে প্রচুর ঘাম জমে। দীর্ঘদিন এভাবে থাকলে ছত্রাক বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ এবং ত্বকে অ্যালার্জি হতে পারে।
নিয়মিত না ধোয়া বা স্যাঁতসেঁতে অন্তর্বাস পরলে ত্বকের নানা রোগ হতে পারে, যা চিকিৎসা না করালে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি করতে পারে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সঠিক অভ্যাস হিসেবে প্রতি ছয় মাস পরপর নিজের মাপ যাচাই করে সঠিক মাপের অন্তর্বাস পরার কথা বলা হয়েছে। প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য সুতি বা আরামদায়ক ও নরম কাপড়ের অন্তর্বাস নির্বাচন করতে এবং রাতে ঘুমানোর সময় অন্তর্বাস খুলে রাখতে বা হালকা সুতির অন্তর্বাস পরতে বলা হয়েছে।
স্তন ক্যানসার এড়াতে অন্তর্বাসের চেয়ে বেশি জরুরি হলো স্থূলতা নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাবার খাওয়া, ধূমপান ও অ্যালকোহল ত্যাগ করা এবং নিয়মিত নিজের স্তন নিজে পরীক্ষা করা। অন্তর্বাস পরার ভুলের কারণে সরাসরি স্তন ক্যানসার হয় না, তাই এ বিষয়ে অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।




