১০ মাসের বেশি নির্বাসন শেষে ভেনেজুয়েলায় ফিরলেন নোবেলজয়ী বিরোধী নেতা মাচাদো

১০ মাসের বেশি সময় নির্বাসনে থাকার পর রোববার ভেনেজুয়েলায় ফিরেছেন দেশটির বিরোধী নেতা ও নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের আগমনের কথা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আমি এখানে। তোমাদের সঙ্গে।’ ডিসেম্বরের পর এই প্রথম তিনি দেশে প্রকাশ্যে এলেন।
মাচাদোর মিত্র ও সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী এডমুন্ডো গনসালেস এক্স-এ তাঁর আগমন নিশ্চিত করে লিখেছেন, তিনি খুব শিগগির মাচাদোর পাশে থাকবেন। গনসালেস লিখেছেন, ‘আজ ভেনেজুয়েলাবাসীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। আমাদের সার্বভৌম কণ্ঠ তাঁর সঙ্গে ফিরে এসেছে এই প্রক্রিয়াকে নেতৃত্ব দিতে ও পথ দেখাতে। তুমি জানো, এটা শেষ পর্যন্ত।’
মাচাদো ভেনেজুয়েলা ছাড়ার এক মাস পর, জানুয়ারিতে, যুক্তরাষ্ট্র তখনকার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়। মাচাদো নরওয়েতে নোবেল শান্তি পুরস্কার নিতে দেশ ছেড়েছিলেন।
মাদুরোর পতনের পর ট্রাম্প প্রশাসন তাঁর সহকারী দেলসি রদ্রিগেসকে সমর্থন দেয়। রদ্রিগেস অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি তেল চুক্তি সই করেন। তখন থেকে ভেনেজুয়েলা চলছে তাঁর নেতৃত্বেই।
তবে মাদুরোকে আটকের পর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য রদ্রিগেসকে দেওয়া অনুমোদিত সময় তিনি ইতোমধ্যে অতিক্রম করেছেন, আর দেশটিতে কোনো নির্বাচনের তারিখও নির্ধারিত হয়নি।
মাচাদোর আগের ইতিহাসও ঘটনাবহুল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একটি প্রতিবাদের পর সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আটক হওয়ার পর তিনি ভেনেজুয়েলায় ১১ মাস আত্মগোপনে ছিলেন। এরপর গোপনে দেশ ছেড়ে তিনি ডিসেম্বরে নরওয়েতে হাজির হন, যেখানে মাদুরোর কর্তৃত্ববাদী সরকারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ চ্যালেঞ্জের জন্য তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়।
মাচাদো ও তাঁর মিত্ররা ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা আগে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিয়েছেন।
১০ মাসের বেশি সময় পর তাঁর এই প্রত্যাবর্তন ঘটল এমন এক সময়ে, যখন ভেনেজুয়েলার গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ আরও গভীর হচ্ছে।




