চিপ ঘাটতিতে ১৪ বছরের সর্বনিম্নে বিশ্ব স্মার্টফোন বাজার, শীর্ষস্থান ধরে রাখল স্যামসাং
২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) বিশ্বে সবচেয়ে বেশি স্মার্টফোন বাজারজাত করেছে স্যামসাং। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময়ে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে দক্ষিণ কোরীয় প্রতিষ্ঠানটির হিস্যা ছিল ২৩ শতাংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৃতীয় প্রান্তিকে ২২ শতাংশ বাজার হিস্যা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে অ্যাপল। তৃতীয় অবস্থানে থাকা শাওমির হিস্যা ১২ শতাংশ। এ ছাড়া অপোর বাজার হিস্যা ৯ শতাংশ এবং ভিভোর ৮ শতাংশ। অর্থাৎ শীর্ষ পাঁচ প্রতিষ্ঠান মিলে বৈশ্বিক বাজারের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ নিজেদের দখলে রেখেছে।
তবে শীর্ষস্থানের এই খবরের পেছনের বড় চিত্রটি মোটেই স্বস্তির নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ পতন হয়েছে। এর ফলে গত ১৪ বছরের মধ্যে তৃতীয় প্রান্তিকে স্মার্টফোন বাজারের আকার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে মেমোরি চিপের ঘাটতির কথা বলা হয়েছে। চিপের ঘাটতির কারণে অধিকাংশ স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সরবরাহব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পুরো বাজারের আকারে।
প্রতিকূল এই পরিস্থিতি থেকে স্যামসাংও পুরোপুরি রেহাই পায়নি। বাজারে প্রতিকূল পরিবেশ সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটির স্মার্টফোন সরবরাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ শতাংশ কমেছে। তবু সরবরাহের এই হ্রাস প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় কম হওয়ায় শীর্ষস্থান ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।
শীর্ষস্থান ধরে রাখার পেছনে আরেকটি কারণ হিসেবে নতুন ফোল্ডেবল স্মার্টফোন সিরিজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড৮-এর নেতৃত্বে নতুন ফোল্ডেবল সিরিজের প্রতি ক্রেতাদের আগাম আগ্রহ স্যামসাংয়ের অবস্থানকে শক্ত করেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তৃতীয় প্রান্তিকের এই পরিস্থিতি পেরিয়ে স্যামসাং বিশ্বজুড়ে গ্রাহকদের জন্য উদ্ভাবনী মোবাইল প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং আরও কার্যকর ও অর্থবহ স্মার্টফোন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।




