রাউজানে সাবেক চেয়ারম্যান গুম-হত্যা মামলা: ফজলে করিম ও জিয়াউলের তদন্ত প্রতিবেদন ৪ জানুয়ারি
গুম ও হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দেন। প্রসিকিউশনের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার এই নতুন তারিখ ধার্য করা হয়।
প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, ২০১০ সালে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু জাফরকে তুলে নেওয়া হয়। পরে গুমের পর তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
সেই ঘটনাতেই ফজলে করিম চৌধুরী ও জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। মামলাটির তদন্ত এখনো চলমান, আর সেই তদন্ত শেষ করতেই অতিরিক্ত সময় দেওয়া হলো।
এর আগে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ এপ্রিল এই মামলায় ফজলে করিম চৌধুরী ও জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তারপর থেকে মামলার কার্যক্রম ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে।
এর বাইরেও ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে আরেকটি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার চলছে। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিমসহ বেশ কয়েকজনকে হত্যার অভিযোগে করা ওই মামলায়ও তিনি গ্রেপ্তার রয়েছেন।
অন্যদিকে জিয়াউল আহসানও আলাদা আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম ও খুনের ঘটনায় করা ওই মামলায় ইতোমধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে বলে প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে।
অর্থাৎ রাউজানের এই মামলা ছাড়াও দুই আসামির বিরুদ্ধে একাধিক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা বিভিন্ন পর্যায়ে বিচারাধীন রয়েছে। কোনো মামলায় তদন্ত চলছে, কোনোটিতে চলছে সাক্ষ্যগ্রহণ।
২০১০ সালের ঘটনাকে কেন্দ্র করে করা এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদনই বিচারপ্রক্রিয়ার পরের ধাপ নির্ধারণ করবে। প্রতিবেদন জমা পড়লে তার ভিত্তিতে অভিযোগ গঠনসহ পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে এগোবে ট্রাইব্যুনাল।
সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুম-হত্যার অভিযোগের এই মামলা ঘিরে ভুক্তভোগী পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষা চলছে। ২০১০ সালে তুলে নেওয়ার পর হত্যার শিকার সৈয়দ আবু জাফরের পরিবার বিচারের আশায় দিন গুনছে।
আগামী ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের ধার্য তারিখে মামলাটি আবার ট্রাইব্যুনাল-২-এ উঠবে। সেদিন প্রতিবেদন জমা পড়ে কি না, তার ওপর নির্ভর করবে মামলার পরবর্তী গতিপথ।




