সেনা পোশাকের ছদ্মবেশে নোয়াখালীতে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, স্বর্ণ ও নগদ টাকা লুট
নোয়াখালী সদর উপজেলায় সেনাবাহিনীর পোশাক পরে এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাত দল পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চার ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বকশিনগর গ্রামে আবুধাবি প্রবাসী মো. নেছার আহমেদের বাড়িতে এই ডাকাতি হয়। বাড়িটিতে সে সময় প্রবাসীর স্ত্রী ও ছেলেসহ পরিবারের সদস্যরা ছিলেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ১০ থেকে ১২ জনের একটি ডাকাত দল দুটি মোটরসাইকেল ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ওই বাড়িতে আসে। দলটি বাড়ির সামনে পৌঁছানোর পর তাদের মধ্যে সাতজন অস্ত্র নিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে।
বাড়ির ভেতরে ঢোকা সাতজনের মধ্যে তিনজন সেনাবাহিনীর পোশাক পরিহিত ছিল। বাকি তিন থেকে চারজন অস্ত্র নিয়ে ঘরের বাইরে পাহারায় থাকে, যাতে কেউ এগিয়ে আসতে না পারে কিংবা পরিবারের কেউ বাইরে বের হতে না পারে।
ডাকাতরা বাড়িতে ঢুকে নেছার আহমেদের স্ত্রী নুরজাহান বেগম ও ছেলে রায়হান হোসেনের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে তাদের জিম্মি করে। পরে ঘরে থাকা চার ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা লুট করে নেয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
ডাকাতি চলার সময় স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে এলে ডাকাতরা নিজেদের সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দেয়। তারা জানায়, তারা আসামি গ্রেপ্তারের জন্য এসেছে। এই পরিচয় শুনে স্থানীয় লোকজন প্রথমে দূরে সরে যান।
তবে পরে বাড়ির চারপাশে লোকজন জড়ো হতে শুরু করলে পরিস্থিতি বদলে যায়। লোকসমাগম বাড়তে দেখে ডাকাতরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। ভোরের এই ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের কেউ এখনো মামলা করতে আসেননি। ডাকাতদল প্রবাসীর বাড়ি থেকে চার জোড়া কানের দুল, দুটি স্বর্ণের চেইন ও নগদ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে গেছে।’ পুলিশের দেওয়া নগদ টাকার অঙ্কে পরিবারের ভাষ্যের সঙ্গে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।
ওসি আরও বলেন, ‘ডাকাতদলের সদস্যরা সেনাবাহিনীর প্রকৃত পোশাক পরেননি। তাদের কয়েকজন সেনাবাহিনীর পোশাকের আদলে তৈরি পোশাক পরেছিলেন।’ অর্থাৎ ছদ্মবেশ ধারণ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মতো পরিস্থিতি তৈরি করাই ছিল দলটির কৌশল।
প্রবাসীর বাড়ি লক্ষ্য করে ভোররাতে সংঘটিত এই ডাকাতি এলাকায় নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, সেনা পোশাকের ছদ্মবেশের কারণে প্রথম মুহূর্তে কেউ প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে পারেননি, আর সেই সুযোগটাই নিয়েছে ডাকাত দল।
ঘটনার পর এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলা হলে তদন্তের ভিত্তিতে ডাকাত দলকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এলাকাবাসী দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।




