সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী, দায়িত্ব দেখালেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক কোনো ঘাটতি ছিল কি না — এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বিষয়টি সম্পর্কে তাঁর স্পষ্ট ধারণা নেই জানিয়ে তিনি মন্তব্য করেছেন, এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিলেটের কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদে সিলেটস্থ কোম্পানীগঞ্জ সমিতির অভিষেক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে কারাগারে থাকা বাংলাদেশিদের বিষয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রবাসে বিভিন্ন কারণে কারাগারে থাকা বাংলাদেশিদের সহায়তায় সরকার কাজ করছে। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে চলতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা কারণে অনেক বাংলাদেশি কারাগারে রয়েছেন। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা তাঁর জানা নেই।
কারাগারে থাকা বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ধরন ও অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে একটি টিম গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের নিজেদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি একে অপরকে কাউন্সেলিং করারও আহ্বান জানান প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী।
সম্প্রতি সৌদি আরবে মসজিদ এলাকায় চুমু খাওয়ার অভিযোগে এক বাংলাদেশি নারী ও এক পুরুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সৌদি আরবের শরিয়াহ আইনের ‘তাআজির’ বিধানের আওতায় বিচারকের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাঁদের এই দণ্ড দেওয়া হয়। পরে উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষও সেই রায় বহাল রাখে।
তবে ওই দুই বাংলাদেশির পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কি না, তাঁরা আপিলের সুযোগ পেয়েছিলেন কি না, কিংবা সৌদি আরবে বাংলাদেশের কনস্যুলার কর্তৃপক্ষের সহায়তা চেয়েছিলেন কি না — তা এখনো স্পষ্ট নয়।
কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদে বিদেশে কোনো নাগরিক গ্রেপ্তার হলে কনস্যুলার যোগাযোগ ও সহায়তার সুযোগের কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার বা বিচারপ্রক্রিয়ার সময় কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
এই ঘটনায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, বিচারপ্রক্রিয়ায় নাগরিকদের আইনি সহায়তা এবং বিদেশে মৃত্যুদণ্ডের মুখে থাকা বাংলাদেশিদের সুরক্ষায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে এসব প্রশ্নে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেননি; তিনি বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন।
ফলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে — এসব প্রশ্নের জবাবের জন্য এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে।





