ফ্রান্সে সপ্তাহান্তের গণবিক্ষোভে আটক ছাড়াল ১ হাজার ৩০০: আহত অন্তত ৫০ পুলিশ সদস্য, উত্তেজনা অব্যাহত
ফ্রান্সজুড়ে সপ্তাহান্তের গণবিক্ষোভের পর আটকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১ হাজার ৩০০ জনে। রোববার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবারের বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় এসব আটকের ঘটনা ঘটেছে; সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন পুলিশ সদস্য এবং তিনজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।
শিক্ষাব্যবস্থার অবনতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের প্রতিবাদে শনিবার দ্বিতীয় দফায় রাজপথে নেমেছিলেন লাখো মানুষ। বিক্ষোভের বেশিরভাগই শান্তিপূর্ণ থাকলেও রাতে প্যারিসসহ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়, আর দিনভর চলে ব্যাপক ধরপাকড়।
এর আগে একই দিনের বিক্ষোভে প্রায় এক হাজার জনকে আটকের খবর পাওয়া গিয়েছিল। রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ হিসাব বলছে, সেই সংখ্যা আরও বেড়ে অন্তত ১ হাজার ৩০০ জনে পৌঁছেছে। আহত পুলিশ সদস্যের সংখ্যা অন্তত ৫০ জন হওয়ায় সংঘর্ষের তীব্রতা সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারণা মিলছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ৭০ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করেছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ এর আগে জানিয়েছিলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় এবার সার্বিক সহিংসতার মাত্রা কম ছিল; আগের সপ্তাহের বিক্ষোভে প্রায় দুই হাজার ৭০০ জনকে আটক করা হয়েছিল এবং বহু দোকানপাটে লুটপাট চালানো হয়েছিল।
রাজধানী প্যারিসে মূল পদযাত্রাটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও শেষ দিকে কয়েক হাজার উগ্র কর্মী একত্র হয়ে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। শপিং সেন্টার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করায় এবার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম হয়েছে।
কান ও মন্তপেলিয়ে শহরে প্রথমবারের মতো অতি-ডানপন্থি কর্মীদেরও রাস্তায় নামতে দেখা গেছে, যা বিক্ষোভের চরিত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রোববার পর্যন্ত পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের দাবি থেকে—তারা স্কুলের পরিবেশ উন্নত করা এবং কর্মী সংকট দূর করার দাবি জানিয়েছিল। পরে কিছু জায়গায় আন্দোলন সহিংস রূপ নেয়, আর জীবনযাত্রার ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে শনিবারের বিক্ষোভে যোগ দেয় ট্রেড ইউনিয়ন ও বিরোধী দলগুলো।
একই দিনে ইতালিসহ ইউরোপের আরও অনেক শহরেও বড় বিক্ষোভ হয়েছে, ফলে আন্দোলনের ঢেউ এখন আর শুধু ফ্রান্সে সীমাবদ্ধ নেই। তরুণদের নেতৃত্বে এই রাজপথের আন্দোলন ইউরোপজুড়ে সরকারগুলোর জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে।
আটকের হালনাগাদ সংখ্যা ও আহত পুলিশের হিসাব প্রকাশের পর বিক্ষোভের বিস্তার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার যুক্তি তুলে ধরা হলেও বিক্ষোভকারীদের দাবি—শিক্ষা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও বৈষম্যের প্রশ্নে বাস্তব পদক্ষেপ না এলে রাজপথের চাপ কমবে না।
আগামী দিনগুলোতে আন্দোলন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন সবার নজর। পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকায় নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।






