মালিকদের দ্বন্দ্বে কিশোরগঞ্জ-মহাখালী রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা; দুপুরে জেলা প্রশাসনের বৈঠক
পরিবহন মালিকদের দ্বন্দ্বের জেরে কিশোরগঞ্জ-মহাখালী রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে জেলা শহরের গাইটাল বাসস্ট্যান্ড থেকে এই রুটে কোনো বাস ছাড়েনি, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। সমস্যা সমাধানে রোববার দুপুর ১টায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী এবং ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী — দুই দিকের যাত্রীরাই হঠাৎ এই সিদ্ধান্তে দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে, কারণ বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই গন্তব্যে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির আহ্বায়ক আনিসুজ্জামান বাবুল জানান, মহাখালী এলাকার পরিবহন মালিকদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নানা বিষয়ে বিরোধ চলছে। এর মধ্যে পুরোনো বাস সরবরাহ এবং কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সমস্যা আরও বেড়েছে।
আনিসুজ্জামান বাবুল বলেন, মহাখালীর মালিকেরা কিশোরগঞ্জের মালিকদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে অসহযোগিতা করছেন। বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে তাঁরা পুরোনো গাড়ি দিতে চান। অথচ কিশোরগঞ্জের অন্যান্য পরিবহনে নতুন গাড়ি চলছে। পুরোনো গাড়ি নিতে রাজি না হওয়ায় তাঁরা কাউন্টার বন্ধ করে দেন।
তিনি আরও বলেন, কথায় কথায় কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়ার কারণে কিশোরগঞ্জের মালিকেরা সমস্যায় পড়ছেন। তাঁরা এই সমস্যার সমাধান চান — আর সেই দাবিতেই বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।
বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আনিসুজ্জামান বাবুল। স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। ফলে প্রশাসনিক পর্যায়ে উদ্যোগের দিকে এখন সবার নজর।
সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই রোববার দুপুর ১টায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছে। এই বৈঠকেই পুরোনো বাস সরবরাহ ও কাউন্টার বন্ধের বিরোধ নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে বৈঠকের ফল না আসা পর্যন্ত বাস চলাচল কবে আবার শুরু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করায় যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে — অনেকেরই ঢাকায় নিয়মিত যাতায়াত এই রুটের বাসের ওপর নির্ভরশীল।
হঠাৎ বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রোববার সকাল থেকেই গাইটাল বাসস্ট্যান্ডে ঢাকাগামী যাত্রীরা বিপাকে পড়েন। যাঁদের জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল, তাঁরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।
পরিবহন মালিকদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের খেসারত সাধারণ যাত্রীদের দিতে হচ্ছে — এই অভিযোগ নতুন নয়, তবে প্রতিবারই ক্ষতিগ্রস্ত হন যাত্রীরাই। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি; রুটটি জেলার মানুষের ঢাকাযাত্রার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হওয়ায় বন্ধের প্রভাব পড়েছে ব্যাপকভাবে।
এখন সবার চোখ দুপুরের বৈঠকের দিকে। বৈঠকে সমঝোতা হলে রুটে বাস চলাচল আবার শুরু হওয়ার পথ খুলবে; আর সমঝোতা না হলে অনির্দিষ্টকালের বন্ধে যাত্রীদুর্ভোগ আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।




