রংপুরে মসজিদের মাইকে ঘোষণার পর গণপিটুনি, অটোরিকশা চুরির অভিযোগে নিহত ২
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরির অভিযোগে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
রবিবার ভোরে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের বাগপুর বাগেরহাট গ্রামের পুকুর খুঁড়ির দোলা ক্যানেল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। একই ঘটনা নিয়ে একাধিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে — মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে চোর ধরে গণপিটুনির বিবরণও এসেছে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন কচুয়া সরদারপাড়া এলাকার এজারুল ওরফে রেজাউল কানা (৪৫) এবং কোলকোন্দ ইউনিয়নের বাসিন্দা সাদিকুল ইসলাম (২৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, ভোরে স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল মিয়ার বসতবাড়ি থেকে একটি অটোরিকশা নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করেন।
তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিকটস্থ মসজিদের মাইক থেকে ‘চোর, চোর’ বলে প্রচার করা হলে ফজরের নামাজে আসা মুসল্লিসহ এলাকাবাসী জড়ো হয়ে অভিযুক্তদের ধাওয়া দেন।
একপর্যায়ে অটোরিকশাটি রাস্তায় ফেলে পালানোর চেষ্টা করা হয়। সোহেল মিয়ার বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার পশ্চিমে উত্তর পানাপুকুর এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে দুজনকে আটক করা হয়।
সেখানে উপস্থিত জনতা তাদের এলোপাতাড়ি মারধর করলে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সবুর জানান, চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের পিটুনিতে দুজনের মৃত্যুর প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তিনি বলেন, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর অভিযোগকারীদের সঙ্গে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। অভিযোগ যাই থাকুক, সন্দেহভাজনদের পুলিশে না দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা গুরুতর অপরাধ হিসেবেই বিবেচিত হয়।
এখন পুলিশের তদন্তে ঘটনার পুরো বিবরণ, কারা মারধরে অংশ নিয়েছিল এবং এর পেছনে আর কোনো কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই ঘটনায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।




