মুলাদীতে হাতবোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ, আহত ছয় যুবক, দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
বরিশালের মুলাদী উপজেলায় হাতবোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে ছয় যুবক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
গত শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের উত্তর বালিয়াতলী গ্রামের একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই রাতে একটি ঘরে বসে ছয় যুবক হাতবোমা তৈরি করছিলেন। হঠাৎ বিস্ফোরণে সবাই আহত হন।
আহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন উত্তর বালিয়াতলী গ্রামের দাদন হাওলাদারের ছেলে ইয়াকুব হাওলাদার (২২) এবং বাটামারা ইউনিয়নের টুমচর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মাস্টারের ছেলে সালমান (২১)। অন্য চারজনের পরিচয় জানা যায়নি।
ঘটনার পর আহতদের স্বজন ও সহযোগীরা অত্যন্ত গোপনে তাদের ঢাকায় নিয়ে যান বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সন্দেহ এড়াতে তাদের ঢাকার তিন-চারটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফলে আহতদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান ও চিকিৎসার বিস্তারিত স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছে।
তার অভিযোগ, আধিপত্য ধরে রাখতে ও প্রতিপক্ষকে ঠেকাতে তারা হাতবোমা, ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র মজুদ করছে। তার দাবি, বিভিন্ন পক্ষই এলাকায় এ ধরনের বোমা জমা করছে।
এই অভিযোগগুলো স্থানীয় বাসিন্দার ভাষ্য হিসেবেই প্রতিবেদনে এসেছে; পুলিশের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নিশ্চিতকরণ প্রাপ্ত উপকরণে নেই।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ উত্তর বালিয়াতলী এলাকা পরিদর্শন করেছে এবং বিষয়টির তদন্ত শুরু হয়েছে।
ওসি আরও জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ এ বিষয়ে তথ্য দিচ্ছেন না। আহত ব্যক্তিরা গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে এবং তাদের সন্ধান চলছে।
এখন পুলিশের তদন্ত ও আহতদের সন্ধানের মাধ্যমেই ঘটনার পুরো চিত্র স্পষ্ট হবে। হাতবোমা তৈরির পেছনে কারা ছিল এবং এই বিস্ফোরণের সঙ্গে এলাকার আধিপত্যের অভিযোগের সম্পর্ক কতটা, তা তদন্তেই জানা যাবে।






