এক মাস দশ দিনের ছুটি শেষে আজ থেকে সুপ্রিম কোর্টে পুরোদমে বিচারকাজ শুরু
টানা এক মাস দশ দিনের অবকাশকালীন ছুটি শেষে রোববার থেকে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে—আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে—নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হচ্ছে। দীর্ঘ ছুটির পর আদালত প্রাঙ্গণে ফিরছে চেনা ব্যস্ততা; বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও আদালতসংশ্লিষ্টদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়।
শনিবার সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অবকাশ শেষে আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হলেও ছুটি-পরবর্তী প্রথম কর্মদিবসে আপিল বিভাগের এক নম্বর কোর্টের দৈনন্দিন বিচারকাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রথম দিন আদালত না বসার কারণ ঐতিহ্যবাহী সৌজন্য সাক্ষাৎ। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অবকাশ শেষে আদালতের প্রথম দিনে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের ইনার ইয়ার্ড প্রাঙ্গণে প্রথাগত সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই সৌজন্য সাক্ষাতের আনুষ্ঠানিকতার কারণেই প্রথম কার্যদিবসে আপিল বিভাগের প্রধান আদালত বা এক নম্বর কোর্টের নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।
এই বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিরা রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকসহ উপস্থিত আইনজীবীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। বিচার বিভাগ ও আইনজীবী সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্কের এই প্রথাগত আয়োজন প্রতি অবকাশের পরই অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
তবে সৌজন্য সাক্ষাতের এই ব্যতিক্রম শুধু আপিল বিভাগের এক নম্বর কোর্টের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আদালতের অন্যান্য কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চগুলোতে নিয়মিত কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে সর্বোচ্চ আদালত ফিরবে তার স্বাভাবিক কর্মছন্দে। সোমবার থেকে আপিল বিভাগের প্রধান কোর্টেও পূর্ণাঙ্গ বিচারকাজ চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অবকাশকালীন সময়ে জরুরি বিষয় শুনানির জন্য সীমিত পরিসরে অবকাশকালীন বেঞ্চ বসে থাকলেও মামলার স্বাভাবিক গতি এ সময়ে ধীর হয়ে আসে। ফলে ছুটি শেষে নিয়মিত আদালত চালু হওয়া বিচারপ্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ—জমে থাকা মামলাগুলোর শুনানি আবার এগোতে শুরু করবে, দেওয়া যাবে নতুন করে তারিখ ও নির্দেশনা।
সুপ্রিম কোর্ট দেশের বিচার ব্যবস্থার সর্বোচ্চ স্তর। সাংবিধানিক ব্যাখ্যা, গুরুত্বপূর্ণ রায় ও নির্দেশনার কেন্দ্র হিসেবে এই আদালতের প্রতিটি কর্মদিবসই জাতীয় জীবনে তাৎপর্য বহন করে। দীর্ঘ অবকাশের পর পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হওয়ার অর্থ—অনেক অপেক্ষমাণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শুনানি ও নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া আবার সচল হচ্ছে।
আইনজীবীদের মধ্যেও ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। ছুটির সময় অনেক আইনজীবী ঢাকার বাইরে থাকলেও আদালত খোলার আগের দিনই অধিকাংশই রাজধানীতে ফিরেছেন। মামলার নথি গোছানো, মুসাবিদা চূড়ান্ত করা আর মুক্কেলদের সঙ্গে পরামর্শে ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁরা—আদালত প্রাঙ্গণ ঘিরে ব্যবসা-বাণিজ্যও ফিরে পাচ্ছে পুরোনো গতি।
বিচারপ্রার্থীদের প্রত্যাশা, নিয়মিত আদালত চালু হওয়ায় দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা মামলাগুলোর শুনানি দ্রুত এগোবে। বিশেষ করে যেসব মামলা অবকাশের ঠিক আগে শুনানির পর্যায়ে ছিল, সেগুলো প্রথম দিকের কার্যতালিকায় অগ্রাধিকার পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে রোববার থেকে সুপ্রিম কোর্টে শুরু হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ বিচারিক কার্যক্রমের নতুন অধ্যায়। প্রথম দিনের সৌজন্য সাক্ষাতের আনুষ্ঠানিকতা পেরিয়ে সোমবার থেকে আপিল ও হাইকোর্ট—দুই বিভাগেই চলবে পুরোদমে শুনানি, রায় ও নির্দেশনার স্বাভাবিক কার্যক্রম।






