রূপপুরের প্রথম ইউনিটে সব কারিগরি পরীক্ষা সফল, এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর অপেক্ষা
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এই ইউনিটের বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ প্রয়োজনীয় যাবতীয় কারিগরি পরীক্ষা। এসব পরীক্ষায় সাফল্যের মধ্য দিয়ে ইউনিটটি বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর চূড়ান্ত পর্বের দিকে এগিয়ে গেল।
এসব পরীক্ষার বিস্তারিত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পর্যালোচনা ও অনুমোদনের ওপরই এখন নির্ভর করছে পরের ধাপে যাওয়ার সময়।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান এই তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কারিগরি পরীক্ষাগুলো নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ীই সম্পন্ন হয়েছে।
নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চূড়ান্ত সবুজ সংকেত পাওয়ার পরপরই ইউনিটটি ‘সি স্টেজ’ বা পাওয়ার স্টার্টআপ প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করবে। এই ধাপেই মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রক্রিয়া কার্যকর রূপ নেবে।
রুশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাম্প্রতিক এক বৈঠকে এই অগ্রগতির বিষয়টি মন্ত্রণালয়কেও জানানো হয়েছে। অর্থাৎ প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকেই আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, চলতি অক্টোবরের শেষ নাগাদ পাওয়ার স্টার্টআপ শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। তবে তা সম্পূর্ণভাবে বায়েরার অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল—অনুমোদন না পেলে এই সময়সূচি পেছাতে পারে।
প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত আকারে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে তা বাড়ানো হবে। একবারে পূর্ণ ক্ষমতায় না গিয়ে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানোর এই পদ্ধতিই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, উৎপাদন ক্ষমতা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে পৌঁছালে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা যাবে। সেই হিসেবে বছরের শেষ নাগাদ অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে বাংলাদেশ বিশ্বের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের ক্ষেত্রে এটি এক অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
রোসাটমের অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট বিভাগের মাধ্যমে নির্মাণাধীন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে জেনারেশন ৩+ প্রযুক্তির দুটি ভিভিইআর-১২০০ চুল্লি স্থাপন করা হচ্ছে। এই দুটি ইউনিট থেকে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।
প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে বর্তমানে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ব্যয় বৃদ্ধি সত্ত্বেও প্রথম ইউনিটের পরীক্ষামূলক ধাপগুলো শেষ হওয়ায় প্রকল্পটি এখন তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্বে প্রবেশ করেছে।
এখন সবার নজর বায়েরার সিদ্ধান্তের দিকে। চূড়ান্ত সবুজ সংকেত মিললেই শুরু হবে পাওয়ার স্টার্টআপ, আর ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়িয়ে বছরের শেষ নাগাদ জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের বিদ্যুৎ যোগ হওয়ার পথ খুলবে।





