‘কার সঙ্গে আলোচনা করছি বুঝতে ইরানি নেতাদের হত্যা বন্ধ করতে হবে’: জর্জিয়ার সমাবেশে ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র কার সঙ্গে আলোচনা করছে, তা নির্ধারণ করার জন্যই ইরানি নেতাদের হত্যা করা বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে ইরানকে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া যাবে না বলে নিজের অবস্থানে অনড় থাকার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এ খবর জানিয়েছে।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) জর্জিয়ায় এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, তার ইরানি নেতাদের হত্যা করা বন্ধ করতে হবে, কারণ কার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা করছে তা তাকে বুঝতে হবে। আলোচনার টেবিলে অপর পক্ষে কে আছে, সেটি জানা না থাকলে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া যায় না — সমাবেশে তার বক্তব্যের সুর ছিল এমনই।
ইরানের সামরিক শক্তি ও নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ধ্বংস হওয়া নিয়ে নিজের আগের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে ট্রাম্প বলেন, তাদের কোনো উড়োজাহাজ নেই, কোনো জাহাজ নেই, কিছুই নেই, কোনো নেতাও নেই। তার ভাষায়, প্রথম সারির নেতারা শেষ, দ্বিতীয় সারির নেতারাও শেষ।
এই বক্তব্য ইরান প্রশ্নে ট্রাম্পের দ্বিমুখী বার্তাকেই তুলে ধরেছে। একদিকে তিনি আলোচনার পক্ষে যুক্তি হিসেবে নেতৃত্ব হত্যা বন্ধের কথা বলছেন, অন্যদিকে ইরানের নেতৃত্ব ও সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের কৃতিত্বও নিজের বলে দাবি করছেন।
বক্তব্যে ট্রাম্প ২০১৮ সালে ২০১৫ সালের ইরান পরমাণু চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তেরও সাফাই গেয়েছেন। ওই চুক্তিটি তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মেয়াদে স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
তেহরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে এক সংকটময় মুহূর্তে ওই চুক্তি বাতিল করা হয়েছিল দাবি করে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট একটি চুক্তি বাতিল করেছিলেন — বারাক হুসেইন ওবামার জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ), যাকে অনেকে ইরান পরমাণু চুক্তি বলে থাকেন, যা ছিল ইরানের জন্য পরমাণু অস্ত্র তৈরির একটি পথ। তার দাবি, সৌভাগ্যবশত একদম সঠিক সময়ে তিনি তা বাতিল করেছিলেন।
২০২৫ সালে চালানো ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, এসব অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, সামরিক, আর্থিক এবং অন্যান্য দিক থেকে ইরানকে পরাজিত করা হয়েছে। তার ভাষায়, নিশ্চিত করতে হবে যে তারা যেন আর কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে না পায়।
নির্বাচনী সমাবেশের মঞ্চ থেকে দেওয়া এই বক্তব্যে ইরান ইস্যুতে তার প্রশাসনের কঠোর অবস্থানই আবার সামনে এল। পরমাণু অস্ত্রের প্রশ্নে কোনো ছাড় না দেওয়ার বার্তা তিনি বারবারই দিয়ে আসছেন, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
তবে এবারের বক্তব্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে আলোচনা প্রসঙ্গটি। নেতৃত্ব হত্যা বন্ধের শর্তে আলোচনার ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প বোঝাতে চেয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কথা বলার মতো নেতৃত্ব তেহরানে টিকে থাকা দরকার — যদিও সেই নেতৃত্ব ধ্বংসের দাবিও তিনিই করেছেন।
এখন দেখার বিষয়, এই বক্তব্যের পর ইরান প্রশ্নে ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কে কোনো নতুন কূটনৈতিক গতি আসে কি না, নাকি দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের ধারাই চলতে থাকে।






