ফরিদপুরের ফলিয়া বাজারে আগুনে পুড়ল সাতটি পাটের গুদাম, তিন হাজার মণ পাট ছাই
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ফলিয়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতটি পাটের গুদাম ও তিনটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গুদামগুলোতে মজুত থাকা প্রায় তিন হাজার মণ পাট পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, পুড়ে যাওয়া পাটের বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা।
গতকাল শনিবার রাত আটটার দিকে উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের ফলিয়া বাজারে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় লোকজন প্রথমে একটি পাটের গুদামে আগুন দেখতে পান। কিন্তু চোখের পলকেই আগুন আশপাশের গুদাম ও দোকানে ছড়িয়ে পড়ে, আর পুরো বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগুনে সাতটি পাটের গুদামের পাশাপাশি একটি চায়ের দোকান ও দুটি কাঁচামালের দোকান পুড়ে গেছে। পাট অত্যন্ত দাহ্য পণ্য হওয়ায় আগুন দ্রুত বিস্তার লাভ করে এবং গুদামগুলোতে থাকা বিপুল পরিমাণ পাট রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের মোট চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার টানা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে তার আগেই গুদাম ও দোকানগুলোর অধিকাংশ মালামাল পুড়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানিয়েছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি কিছু মালামাল উদ্ধার করাও সম্ভব হয়েছে। কিন্তু গুদামের ভেতরে থাকা পাটের বড় অংশই আগুনে ভস্মীভূত হয়, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পরিমাণ বড় হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে রাজু ও মাসুদ নামে দুজনের নাম জানা গেছে। আরও কয়েকজন ব্যবসায়ীর গুদাম ও দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁদের পূর্ণ তালিকা ও ক্ষতির হিসাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বাজারের ব্যবসায়ী কাশেম মণ্ডল জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে তাঁর দুই স্বজনও রয়েছেন। তিনি বলেন, রাত আটটার দিকে স্থানীয় লোকজন একটি পাটের গুদামে আগুন দেখতে পান। খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, গুদামগুলোতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সাতটি গুদামে থাকা প্রায় তিন হাজার মণ পাট পুড়ে গেছে, যার বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা।
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সোহেল রানা জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় কিছু মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি বলে জানিয়েছেন সোহেল রানা। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে বলে তিনি জানান।
পাট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল, আর ফরিদপুরসহ এই অঞ্চলের বাজারগুলোতে মৌসুমে বিপুল পরিমাণ পাট মজুত থাকে। গুদামে আগুন লাগলে সেই মজুত মুহূর্তেই বড় আর্থিক ক্ষতিতে পরিণত হয়, যার ধাক্কা ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি কৃষক ও পাটশিল্পের সঙ্গেও গিয়ে পড়ে।
এখন তদন্তের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে আছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। আগুনের কারণ জানা গেলে এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব তৈরি হলে তাঁরা পরবর্তী পদক্ষেপের কথা ভাববেন। আপাতত পোড়া গুদামের ধ্বংসাবশেষের সামনে দাঁড়িয়ে দুই কোটি টাকার ক্ষতির বোঝা কীভাবে সামলাবেন, সেই দুশ্চিন্তাই বড় হয়ে উঠেছে ফলিয়া বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে।






