…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › অর্থনীতি ও ব্যবসা › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
অর্থনীতি ও ব্যবসা

সবচেয়ে কম পিই রেশিও ব্যাংকের শেয়ারে, তবু আস্থার ঘাটতিতে পিছিয়ে বিনিয়োগকারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ঝুঁকি বিচারে যে নির্দেশকটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়, তার নাম মূল্য আয় অনুপাত বা পিই রেশিও। কোনো কোম্পানির শেয়ারের দামের সঙ্গে তার আয়ের অনুপাত যত কম, সাধারণ বিবেচনায় সেই শেয়ারে বিনিয়োগ তত কম ঝুঁকিপূর্ণ বলে ধরা হয়। সেই হিসাবেই বর্তমানে দেশের শেয়ারবাজারে সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে ব্যাংক খাতের শেয়ার, কারণ এই খাতের গড় পিই রেশিও এখন সব খাতের মধ্যে সবচেয়ে কম।

গত সপ্তাহ শেষে ব্যাংক খাতের শেয়ারের গড় পিই রেশিও দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ২৭। সংখ্যাটি শুনলে মনে হতে পারে, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকার কথা ব্যাংকের শেয়ার। বাস্তব চিত্রটি উল্টো। কম ঝুঁকির এই হিসাব সত্ত্বেও ব্যাংক খাতের শেয়ারে বিনিয়োগে আগ্রহ কম দেখাচ্ছেন প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা দুই পক্ষই।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এর মূল কারণ আস্থার ঘাটতি। অতীত অভিজ্ঞতার কারণে হাতেগোনা কয়েকটি ব্যাংক ছাড়া বেশির ভাগ ব্যাংকের প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য নিয়েই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। ফলে কাগজে-কলমে পিই রেশিও কম হলেও সেই আয়ের হিসাব কতটা বিশ্বাসযোগ্য, সেই প্রশ্নটি বিনিয়োগের সিদ্ধান্তে বড় হয়ে উঠছে।

আরেকটি কারণ ব্যাংকগুলোর আয়ের ধরন। গত কয়েক বছরে কিছু ব্যাংকের মুনাফা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে, তবে সেই বৃদ্ধির বড় অংশই এসেছে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগের মুনাফা থেকে। ব্যাংকের প্রকৃত ব্যবসা থেকে আয় সেভাবে বাড়েনি। ট্রেজারি বিল-বন্ডের মুনাফাকে বাজারসংশ্লিষ্টরা সাময়িক বলে মনে করেন, তাই টেকসই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

বর্তমানে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকের সংখ্যা ৩৬টি। এর মধ্যে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি ব্যাংকের লেনদেন বন্ধ রয়েছে এবং সেসব ব্যাংকের শেয়ারের মূল্যমান এরই মধ্যে শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া খেলাপি ঋণ ও নানা অনিয়মে জর্জরিত সাতটি ব্যাংক বড় ধরনের লোকসানে থাকায় সেগুলোর হালনাগাদ পিই রেশিও প্রকাশ করা হয়নি।

নিয়মিত আয়ের ভিত্তিতে পিই রেশিও হিসাব করা হয়েছে ২৪টি ব্যাংকের। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ব্যাংকগুলোর সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই হিসাব প্রকাশ করেছে। সেই তালিকায় সবচেয়ে কম পিই রেশিও যমুনা ব্যাংকের, ২ দশমিক ৮৮। দ্বিতীয় অবস্থানে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, যার পিই রেশিও ৩ দশমিক ২৩।

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে সাউথইস্ট ব্যাংক, পিই রেশিও ৩ দশমিক ৪৫। চতুর্থ অবস্থানে এনসিসি ব্যাংক, ৩ দশমিক ৫১ এবং পঞ্চম অবস্থানে প্রাইম ব্যাংক, ৪ দশমিক ১৪। ডিএসইর হিসাব অনুযায়ী, এই ২৪টি ব্যাংকের মধ্যে ১১টির পিই রেশিও ৫-এর নিচে রয়েছে। সংখ্যার বিচারে কম পিই রেশিওর ব্যাংকের তালিকাটি ছোট নয়।

পিই রেশিও কীভাবে হিসাব করা হয়, তা বোঝাও জরুরি। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো বছরে চারবার আয়ের হিসাব প্রকাশ করে। এর মধ্যে বার্ষিক আয়ের হিসাবটিই একমাত্র নিরীক্ষিত, বাকি তিনটি আর্থিক প্রতিবেদন সাধারণত অনিরীক্ষিত থাকে। এসব প্রতিবেদন ও আয়ের ভিত্তিতেই কোম্পানির পিই রেশিওর পরিবর্তন ঘটে।

শুধু বিনিয়োগের সিদ্ধান্তেই নয়, ঋণসুবিধার ক্ষেত্রেও পিই রেশিও বিবেচনায় নেওয়া হয়। শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের অনেকে ঋণসুবিধা নিয়ে থাকেন, আর ঋণ বিতরণের সময় ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এই অনুপাতটি দেখে। তবে পিই রেশিওর ভিত্তি যে ইপিএস বা শেয়ারপ্রতি আয়, বেশির ভাগ কোম্পানির ক্ষেত্রে সেই ইপিএসের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেছেন, সাধারণভাবে বলা হয় যে কোম্পানির পিই রেশিও যত কম, সেই কোম্পানিতে বিনিয়োগে ঝুঁকিও তত কম। তবে ব্যাংকগুলো যে মুনাফার হিসাব দেয়, তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতে যে পরিস্থিতি, তাতে কম পিই রেশিও হওয়ার পরও এই খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম।

ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী আরও একটি দিক তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষায়, দেশের বাজারে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বিনিয়োগকারী দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের বদলে নিয়মিত ট্রেডিংয়ে বেশি আগ্রহী। ফলে যেসব শেয়ারের দাম দ্রুত বাড়ে, সেগুলোর প্রতিই তাঁদের আগ্রহ বেশি থাকে। তুলনামূলক স্থির ব্যাংকের শেয়ার সেই দৌড়ে পিছিয়ে পড়ে।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে লভ্যাংশের প্রশ্ন। ব্যাংকগুলোর মুনাফা গত কয়েক বছরে যতটা বেড়েছে, লভ্যাংশের হার সেই অনুযায়ী বাড়েনি। কারণ মুনাফার একটি বড় অংশ মন্দ ঋণের বিপরীতে প্রভিশনিং বা সঞ্চিতি রাখতে হচ্ছে। ফলে মুনাফা বাড়লেও শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা তার সুফল পাচ্ছেন কম, যা আগ্রহ কমার আরেকটি কারণ বলে মনে করেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সব মিলিয়ে চিত্রটি পরিষ্কার: সংখ্যার বিচারে ব্যাংকের শেয়ার এখন বাজারের সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ, কিন্তু আস্থা, আয়ের ধরন ও লভ্যাংশের বাস্তবতা সেই সংখ্যাকে বিনিয়োগে রূপ দিতে পারছে না। ব্যাংক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি ও আর্থিক প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সংশয় কাটলেই কেবল কম পিই রেশিওর এই সুবিধা বিনিয়োগকারীদের কাছে অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

অর্থনীতি ও ব্যবসা বিভাগের আরও খবর

অর্থনীতি ও ব্যবসা

ব্যাংকের সাপ্তাহিক ছুটি এক দিন করার দাবি দোকান মালিক সমিতির: ‘ছুটির ফাঁদে দেশকে ফেলা যাবে না’

দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের সাপ্তাহিক ছুটি কমিয়ে এক দিন করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। সংগঠনটির মতে, ব্যাংক টানা কয়েক দিন বন্ধ থাকা…

অর্থনীতি ও ব্যবসা

নগদের প্ল্যাটফর্মে মিলবে সোনালী লাইফের দুই বিমা পণ্য: ডিজিটাল বিমাসেবা ছড়াতে দুই প্রতিষ্ঠানের চুক্তি

বাংলাদেশে ডিজিটাল বিমাসেবার পরিধি বাড়াতে এবং সাধারণ মানুষের কাছে জীবন বিমা আরও সহজলভ্য করতে কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি সই করেছে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্…

অর্থনীতি ও ব্যবসা

বদলে যাচ্ছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারের সমীকরণ: গ্যাস রপ্তানিকারক কাতারই এখন কিনছে মার্কিন এলএনজি, তেল ছয় মাসের সর্বোচ্চে

ইরান যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোয় ভয়াবহ হামলা এবং বাণিজ্যিক নৌপথের চরম নিরাপত্তাহীনতায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন শুরু হয়…

অর্থনীতি ও ব্যবসা

ব্যাংকের সাপ্তাহিক ছুটি এক দিনে নামিয়ে আনার দাবি দোকান মালিক সমিতির

দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের সাপ্তাহিক ছুটি কমিয়ে এক দিন করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। সংগঠনটির মতে, ব্যাংক টানা কয়েক দিন বন্ধ থাকা…