জর্ডানে গির্জায় হামলায় নিহত বেড়ে ৯, ‘চরমপন্থী তাকফিরি মতাদর্শ’কে দায়ী করল সরকার
জর্ডানের কারাক শহরে একটি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় জানাজার অনুষ্ঠান চলাকালে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ জনে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই ডজনের বেশি মানুষ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সরকারের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের ‘চরমপন্থী তাকফিরি মতাদর্শের’ অনুসারী বলে দায়ী করা হয়েছে।
হামলাটি হয় শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানী আম্মান থেকে প্রায় ৫৫ মাইল দক্ষিণে কারাক গভর্নরেটের হামুদ গ্রামের একটি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায়, যেখানে তখন জানাজার অনুষ্ঠান চলছিল। বন্দুকধারীরা গির্জায় ঢুকে গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই অনেকে হতাহত হন।
জর্ডানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইব্রাহিম আল-বুদুর শনিবার জানিয়েছেন, গুরুতর আহত একজন রোগী এখনো প্রিন্স আলী সামরিক হাসপাতালে অস্থিতিশীল অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের অনেককে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সরকারের মুখপাত্র মোহাম্মদ মোমানি শনিবার বলেন, হামলাকারীরা ‘চরমপন্থী তাকফিরি মতাদর্শে’ বিশ্বাসী। এই মতাদর্শে যারা কঠোর ব্যাখ্যা মেনে চলে না, তাদের ধর্মত্যাগী বা অবিশ্বাসী আখ্যা দেওয়া হয়। আইএসের মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদিদের হত্যার যুক্তি হিসেবে এই বিশ্বাসকে ব্যবহার করেছে।
তবে হামলাকারীরা কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। জর্ডান কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত এই হামলার ঘটনায় কোনো গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেয়নি। হামলাকারীদের সংখ্যা সম্পর্কেও আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা মেলেনি।
জর্ডানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, পিস্তল হাতে দুজন বন্দুকধারী গির্জার দিকে এগিয়ে গুলি চালাচ্ছেন। কয়েক মুহূর্ত পরেই অর্ধ-স্বয়ংক্রিয় রাইফেলের মতো অস্ত্র হাতে তৃতীয় একজন তাদের সঙ্গে যোগ দেন এবং তিনজনই গির্জার দিকে ছুটে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী দোরগাম হালাসা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, জানাজার অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার প্রায় ১৫ মিনিট পর গির্জার ভেতরে প্রবল গুলির শব্দ শুরু হয়। মানুষ দৌড়াতে থাকে। তিনি নিজে বন্দুকধারীদের দেখেননি, তবে যাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তারা অন্তত চারজন হামলাকারীর কথা বলেছেন।
গির্জা এলাকা নিরাপত্তা বাহিনী ঘিরে ফেলার পর ভেতরের চিত্র ছিল ভয়াবহ — ভাঙা কাচ আর রক্তের ছোপ। গির্জার বাইরে কম্বলে ঢাকা দুটি মরদেহও দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
শুক্রবারই জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ বলেছিলেন, কারাককে লক্ষ্য করে করা এই সন্ত্রাসী হামলার জবাব দেওয়া হবে কঠোরতম শাস্তির মাধ্যমে। তিনি বলেন, বিশ্বাসঘাতকতার বুলেট জর্ডানবাসীর ঐক্যের সারি ভাঙতে পারবে বলে যারা ভাবছে, তারা ব্যর্থ হবে। নিহতদের পরিবারের প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা জানান।
কারাকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। সরকারের মুখপাত্র মোমানি জোর দিয়ে বলেছেন, খ্রিস্টানরা ‘জর্ডানের জাতীয় কাঠামোর অংশ’। হামলার পর এই বার্তা দিয়ে সাম্প্রদায়িক ঐক্য অটুট রাখার চেষ্টা করছে সরকার।
তদন্ত ও হামলাকারীদের শনাক্তের কাজ চলমান রয়েছে। হামলার পেছনের মোটিভ ও সম্ভাব্য সংগঠন সম্পর্কে তদন্ত এগোলে আরও তথ্য জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।



