জেদ্দায় সৌদি ফ্যাশন এক্সপোতে বাংলাদেশের ১১ পোশাক প্রতিষ্ঠান, প্যাভিলিয়নে ঐতিহ্য ও সক্ষমতার প্রদর্শনী
সৌদি আরবের জেদ্দায় শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী চতুর্থ ‘সৌদি ফ্যাশন অ্যান্ড টেক্স এক্সপো ২০২৬’। জেদ্দা ইন্টারন্যাশনাল এক্সিবিশন অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এই মেলায় বাংলাদেশের ১১টি পোশাক ও ফ্যাশন প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) আর্থিক সহায়তা এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জেদ্দায় বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেলের সহযোগিতায় মেলায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন স্থাপন করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের উপস্থিতি বাড়ানোই এই অংশগ্রহণের মূল লক্ষ্য।
এক্সপোর উদ্বোধন করেন জেদ্দা চেম্বার অব কমার্সের ভাইস চেয়ারম্যান ইমাদ মোহাম্মদ আল আবউদ। পরে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং সৌদি ফেডারেশন অব চেম্বারের সদস্য ও সৌদি রিজিওনাল বিজনেস কাউন্সিল ফর সাউথ ইস্ট এশিয়ার এক্সিকিউটিভ বোর্ড সদস্য ওসামা কোউকানদি যৌথভাবে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন করেন।
প্যাভিলিয়ন উদ্বোধনের সময় মিনিস্টার (কমার্শিয়াল) সৈয়দা নাহিদা হাবিবা, কনসুলেটের কর্মকর্তা, সৌদি ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, প্রবাসী ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো জাকারিয়া নিটওয়্যার লিমিটেড, আলেয়া অ্যাপারেলস লিমিটেড, এম এস এএইচ কিউ অ্যাপারেলস, মডেস্ট অ্যাট্যায়ার বাই জাহান, ইতন ফ্যাশনস লিমিটেড, স্বপ্নীল হাউজ, বনুম গার্মেন্টস লিমিটেড, বেল বটম লিমিটেড, মার্কার, সাওদা ফ্যাশন এবং আল নূর গার্মেন্টস লিমিটেড।
ইপিবির উদ্যোগে পৃথক একটি বুথে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, উৎপাদন সক্ষমতা ও রপ্তানিযোগ্য পণ্য নিয়ে তথ্যচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে। অর্থাৎ শুধু পণ্য নয়, বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের সামগ্রিক গল্পটাও তুলে ধরা হচ্ছে বিদেশি ক্রেতাদের সামনে।
আয়োজক পিরামিডস গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, এবারের এক্সপোতে ৫৫০টির বেশি বুথ রয়েছে। বিশ্বের ২৫টির বেশি দেশ থেকে প্রায় ১০ হাজার বাণিজ্য দর্শনার্থী ও ক্রেতার অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে — সংখ্যার দিক থেকে এটি একটি বড় আকারের আঞ্চলিক বাণিজ্য আয়োজন।
বাংলাদেশের জন্য সৌদি আরব শুধু জনশক্তি রপ্তানির বাজার নয়, তৈরি পোশাকেরও একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য। এমন মেলায় সরাসরি ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ হলে নতুন অর্ডারের পাশাপাশি বাজারের চাহিদা বোঝার সুযোগও তৈরি হয়।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই মেলার মাধ্যমে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্যের নতুন ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে। প্রদর্শনীটি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত চলবে।
১১টি প্রতিষ্ঠানের এই অংশগ্রহণ থেকে কতটি বাস্তব বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও অর্ডার আসে, সেটাই শেষ পর্যন্ত এই উদ্যোগের সাফল্য মাপবে। তবে সরকারি সহায়তায় সমন্বিত প্যাভিলিয়ন নিয়ে হাজির হওয়াটা মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


