মোহাম্মদপুরে ২৪ ঘণ্টার অভিযানে নারী-কিশোরসহ ১৩ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার, অস্ত্র ও ফোন উদ্ধার
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে নারী, পুরুষ ও কিশোরসহ ১৩ ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ও ছিনতাই হওয়া চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম। তিনি জানান, মোহাম্মদপুর এলাকায় ২৪ ঘণ্টা ধরে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এই ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে তিনটি সুইচ গিয়ার, দুটি ধারালো চাকু, চারটি রড ও একটি করাত কাটার চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অস্ত্র ছিনতাইয়ের সময় ভয় দেখাতে ব্যবহার করা হতো বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজন কিশোর ও একজন নারী রয়েছেন। নারী ও কিশোরদের চক্রে যুক্ত করে ছিনতাই চালানোর এই ধরনটি এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ওসি আব্দুল হালিম আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে হাসনাইন হাসান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর, ধানমণ্ডি ও শেরেবাংলানগর থানায় ছিনতাইয়ের অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রের সদস্যরা মূলত পথচারী, বাসযাত্রী ও রিকশার আরোহীদের লক্ষ্যবস্তু বানাতেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের স্বজনরাও তাদের টার্গেটের বাইরে ছিলেন না।
ছিনতাইয়ের কৌশল ছিল দুই ধরনের। কখনো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হতো; আবার কখনো নারীদের অসাবধানতার সুযোগ নিয়ে ব্যাগ থেকে মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেওয়া হতো।
উদ্ধার করা চারটি মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের শিকার ব্যক্তিদের বলে ধারণা করা হচ্ছে। যথাযথ যাচাই শেষে সেগুলো প্রকৃত মালিকদের ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানোর কার্যক্রম চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসবে আদালত থেকেই।
মোহাম্মদপুর এলাকায় ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান নিয়মিত চালানো হবে বলেও তিনি জানান।
রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ছিনতাই দীর্ঘদিনের সমস্যা। পথচারী ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই মোহাম্মদপুরের এই অভিযানকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, এক দিনের অভিযানেই যেন তৎপরতা থেমে না যায়। নিয়মিত টহল ও নজরদারি অব্যাহত থাকলেই ছিনতাইচক্রের দৌরাত্ম্য কমবে বলে মনে করছেন তারা। পুলিশের পক্ষ থেকেও অভিযান চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস মিলেছে।






