১২.০৮ সেকেন্ডে ছুটে ১৮তমবার দেশের দ্রুততম মানবী যবিপ্রবির শিরিন আক্তার
দেশের অ্যাথলেটিকসে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলেন শিরিন আক্তার। ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় নারীদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে সেরা হয়ে ১৮তমবারের মতো দেশের দ্রুততম মানবীর খেতাব জিতেছেন তিনি। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের এই শিক্ষার্থী বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অ্যাথলেট হিসেবে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় শিরিন ১২.০৮ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড় শেষ করে প্রথম স্থান অর্জন করেন। তাঁর এই সময় এবারের আসরে নারীদের স্প্রিন্টে সেরা সময় হিসেবে 기록 হয়েছে।
একই ইভেন্টে ১২.২৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় হন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শরিফা খাতুন। আর ১২.৩৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সুমাইয়া দেওয়ান। ফলে পডিয়ামে নৌবাহিনীর দুজন অ্যাথলেটের উপস্থিতি এবারের স্প্রিন্টকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
এবারের জয় শিরিনের জন্য নিজের আগের সেরা সময়কেও ছাড়িয়ে যাওয়ার গল্প। এর আগে গত মে মাসে অনুষ্ঠিত ৪৯তম জাতীয় অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় তিনি ১২.১০ সেকেন্ড (ইলেকট্রনিক) সময় নিয়ে টানা ১৭তমবারের মতো দেশের দ্রুততম মানবীর খেতাব জিতেছিলেন। এবার ১২.০৮ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে তিনি সেই সময়কেও পেছনে ফেলেছেন।
বারবার দেশের দ্রুততম মানবীর খেতাব জেতা শিরিন আক্তার খেলাধুলা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনাও করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার খেলাধুলা এভাবেই চালিয়ে যেতে চাই। বর্তমানে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্পোর্টস সায়েন্সে মাস্টার্স করছি। সেখানে উপাচার্য স্যারসহ অন্যান্য শিক্ষক ও কোচ সবসময় আমাকে সহযোগিতা করেন।’
শিরিন আরও বলেন, মাস্টার্স শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পিএইচডি করতে যেতে চান তিনি। এ লক্ষ্যে বর্তমানে তাঁর প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান এই স্প্রিন্টার। ট্র্যাকের সাফল্যের পাশাপাশি পড়াশোনায়ও এগিয়ে যাওয়ার এই পরিকল্পনা তাঁর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যেরই প্রতিফলন।
এবারের প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াত ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্মরণে। প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হয় শুক্রবার বিকেলে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
টানা সাফল্যের ধারায় শিরিনের এই ১৮তম খেতাব দেশের নারী অ্যাথলেটিকসে ধারাবাহিকতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকল। জাতীয় পর্যায়ে বারবার সেরা হওয়ার পাশাপাশি নিজের সময়ের উন্নতি ধরে রাখা তাঁর পরবর্তী প্রতিযোগিতাগুলোর জন্যও প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিল।
এখন সবার দৃষ্টি থাকবে তাঁর পরবর্তী আসরগুলোর দিকে—ট্র্যাকে গতি ধরে রাখার পাশাপাশি মাস্টার্স শেষ করে পিএইচডির জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি কীভাবে এগোয়, সেটিও তাঁর ভক্ত ও ক্রীড়ামহলের আগ্রহের বিষয় হয়ে থাকবে।




