দ্বিশতকের দুয়ারে দাঁড়িয়ে নাঈম, ঘরোয়া ক্রিকেটে বাড়ছে অপেক্ষার উত্তেজনা
ঘরোয়া ক্রিকেটে এখন সবার চোখ এক ব্যাটারের দিকে — নাঈম দাঁড়িয়ে আছেন দ্বিশতকের একেবারে দুয়ারে। দুই শ রানের মাইলফলক থেকে সামান্য দূরত্বে থাকা এই ইনিংস ঘিরে মাঠে ও মাঠের বাইরে তৈরি হয়েছে বাড়তি উত্তেজনা, কারণ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্বিশতক মানেই একজন ব্যাটারের ধৈর্য, মনোযোগ আর দক্ষতার সবচেয়ে বড় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া।
দ্বিশতকের অপেক্ষা ক্রিকেটে সব সময়ই বিশেষ। এক শ রান পেরোনোর পর ব্যাটারের সামনে চ্যালেঞ্জটা আরও কঠিন হয়ে ওঠে — শরীরে ক্লান্তি জমে, মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়, আর প্রতিপক্ষের বোলাররাও নতুন করে পরিকল্পনা সাজান ঠিক এই সময়টাতেই।
নাঈমের এই ইনিংসের সবচেয়ে বড় দিক হলো তার ধারাবাহিকতা। লম্বা ইনিংস খেলতে হলে শুধু বড় শটের সামর্থ্য থাকলেই চলে না, বল ছেড়ে দেওয়ার বিচার, স্ট্রাইক বদলানোর হিসাব আর প্রতিটি সেশনে নতুন করে শুরু করার মানসিকতাও লাগে সমানভাবে।
ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্বিশতক হাঁকানো ব্যাটারের সংখ্যা খুব বেশি নয়। দীর্ঘ সময় ক্রিজে থাকা, ভিন্ন ভিন্ন বোলিং আক্রমণের মোকাবিলা করা এবং উইকেটের চরিত্র বদলের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া — সব মিলিয়ে এটি এমন এক কৃতিত্ব, যা একজন ব্যাটারের পুরো মৌসুমের আত্মবিশ্বাস বদলে দিতে পারে।
সতীর্থদের জন্যও এমন ইনিংস বড় প্রেরণা। এক প্রান্তে একজন ব্যাটার দীর্ঘ সময় টিকে থাকলে অন্য প্রান্তের ব্যাটাররা নির্ভয়ে খেলতে পারেন, দলের ইনিংস পায় শক্ত ভিত, আর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে চলে আসে নিজেদের হাতে।
বোলিং দলের জন্য এই অপেক্ষার সময়টা আবার সবচেয়ে অস্বস্তিকর। উইকেট না পেলে চাপ বাড়ে, ফিল্ডিংয়ে ভুলের সম্ভাবনা তৈরি হয়, আর একজন সেট ব্যাটার তখন যেকোনো সময় হাত খুলে রানের গতি বাড়িয়ে দিতে পারেন।
নাঈম এখন সেই সন্ধিক্ষণে, যেখানে একটি ভুল শট পুরো ইনিংসের গল্প বদলে দিতে পারে, আবার কিছুটা ধৈর্যই তাকে পৌঁছে দিতে পারে কাঙ্ক্ষিত মাইলফলকে। এমন মুহূর্তে অভিজ্ঞ ব্যাটাররা সাধারণত ঝুঁকি কমিয়ে এক-দুই রান করে এগোনোর পথটাই বেছে নেন।
বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে উঠে আসা লম্বা ইনিংসের গল্প সব সময়ই জাতীয় দলের নির্বাচকদের নজর কাড়ে। টেস্ট ক্রিকেটে লম্বা সময় ব্যাট করার সামর্থ্যই সবচেয়ে বড় সম্পদ, আর ঘরোয়া মঞ্চে দ্বিশতকের মতো ইনিংস সেই সামর্থ্যেরই সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
দর্শকদের কাছেও এই অপেক্ষার আলাদা আবেদন আছে। প্রতিটি রান যোগ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে উত্তেজনা — মাইলফলক থেকে দূরত্ব যত কমছে, মাঠের প্রতিটি বল ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এখন দেখার বিষয়, নাঈম এই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্বিশতক পূর্ণ করতে পারেন কি না। পারলে এটি হবে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় ইনিংস, আর ঘরোয়া ক্রিকেট পাবে আরও একটি লম্বা ইনিংসের গল্প, যা অনেক দিন মনে রাখার মতো।





