সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, পরিবারগুলোতে শোক আর উদ্বেগ
সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার পাওয়া এই খবরে এলাকার অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে, কারণ ‘আরও’ শব্দটিই বলছে — এই ধরনের মৃত্যুর ঘটনা এটাই প্রথম নয়, এর আগেও একই উপসর্গ নিয়ে শিশু মৃত্যুর খবর এসেছে।
মারা যাওয়া দুই শিশুর নাম, বয়স ও ঠিকানা সম্পর্কে পাওয়া প্রতিবেদনগুলোতে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। তারা কোন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল কিংবা ঠিক কখন মারা গেছে — এসব বিষয়েও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি বলে পরিস্থিতির পূর্ণ চিত্র এখনো অজানা রয়ে গেছে।
হাম একটি ভাইরাসজনিত ও অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা সাধারণত শিশুদেরই বেশি আক্রান্ত করে। জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি এই রোগের পরিচিত উপসর্গ। বেশিরভাগ শিশু সুস্থ হয়ে উঠলেও পুষ্টিহীনতা বা অন্য জটিলতা থাকলে রোগটি প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে।
এই কারণে শিশুদের মৃত্যুর খবর অভিভাবকদের জন্য শুধু শোকের নয়, আতঙ্কেরও। নিজের সন্তানের গায়ে জ্বর বা ফুসকুড়ি দেখলেই এখন অনেক বাবা-মা দুশ্চিন্তায় পড়ছেন এবং হাসপাতালমুখী হচ্ছেন।
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় টিকা। নির্ধারিত সময়ে শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হলে এই রোগ থেকে সুরক্ষা মেলে — এ কথা চিকিৎসকেরা বারবার বলে আসছেন। কোনো শিশুর টিকা বাদ পড়ে থাকলে তা পূরণ করার ওপরও জোর দেওয়া হয় সব সময়।
সিলেট অঞ্চলে একের পর এক শিশু মৃত্যুর খবরে স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠছে — এলাকায় হামের প্রকোপ বাড়ছে কি না, টিকাদান কার্যক্রমে কোথাও ঘাটতি রয়ে গেছে কি না, আর আক্রান্ত শিশুরা সময়মতো চিকিৎসা পাচ্ছে কি না।
এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে প্রকৃত চিত্র জানানো জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। কতজন শিশু আক্রান্ত হয়েছে, মৃত্যুর কারণ চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে কি না — এসব তথ্য জানা গেলে গুজব ও আতঙ্ক দুটোই কমবে।
চিকিৎসকদের সাধারণ পরামর্শ হলো, শিশুর গায়ে জ্বর ও ফুসকুড়ি দেখা দিলে ঘরে বসে না থেকে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া, আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা এবং পর্যাপ্ত তরল খাবার ও যত্ন নিশ্চিত করা। দেরি করে হাসপাতালে নেওয়াই অনেক ক্ষেত্রে জটিলতার বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
দুই শিশুর পরিবারে এখন শোকের ছায়া। সন্তান হারানোর এই বেদনার পাশাপাশি এলাকার অন্য পরিবারগুলোও চাইছেন, এমন মৃত্যু যেন আর না ঘটে — আর তার জন্য দরকার দ্রুত ও কার্যকর স্বাস্থ্য উদ্যোগ।
আপাতত সবার নজর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দিকে। মৃত্যুর ঘটনাগুলো নিয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের ঘোষণা এলে পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।



