সিলেট কিডনি ফাউন্ডেশনে রেনাল নার্সিং কোর্সে ভর্তি শুরু ২৫ অক্টোবর থেকে
সিলেট কিডনি ফাউন্ডেশনে রেনাল নার্সিং কোর্সে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে। কিডনি রোগীদের বিশেষায়িত সেবায় দক্ষ নার্স তৈরির লক্ষ্যে আয়োজিত এই কোর্সে ভর্তির ঘোষণা সিলেট বিভাগের স্বাস্থ্য খাতে নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে।
রেনাল নার্সিং হলো নার্সিংয়ের একটি বিশেষায়িত শাখা, যেখানে কিডনি রোগ, ডায়ালাইসিস ও কিডনিসংক্রান্ত জটিলতার চিকিৎসায় রোগীর পাশে থেকে সেবা দেওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সাধারণ নার্সিং জ্ঞানের পাশাপাশি এই ক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি পরিচালনা, রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও জরুরি পরিস্থিতি সামলানোর আলাদা দক্ষতা প্রয়োজন হয়।
সিলেট বিভাগে কিডনি রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষায়িত সেবার চাহিদাও বাড়ছে। ডায়ালাইসিসের মতো নিয়মিত ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় রোগীর সবচেয়ে বেশি সময় কাটে নার্সদের তত্ত্বাবধানে, তাই প্রশিক্ষিত রেনাল নার্সের ভূমিকা এখানে সরাসরি রোগীর নিরাপত্তা ও চিকিৎসার মানের সঙ্গে জড়িত।
সিলেট কিডনি ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলের কিডনি রোগীদের সেবা ও সচেতনতা নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় নিজস্ব জনবল তৈরির এই কোর্সকে স্থানীয় স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, কারণ বাইরে থেকে দক্ষ জনবল আনার বদলে স্থানীয়দের প্রশিক্ষিত করা গেলে সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হয়।
ভর্তি শুরু হচ্ছে ২৫ অক্টোবর থেকে — এই তারিখটিই ঘোষণায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। আগ্রহী প্রার্থীদের ভর্তির যোগ্যতা, আসনসংখ্যা, কোর্সের মেয়াদ ও ফিসংক্রান্ত বিস্তারিত জানতে সরাসরি ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, কারণ ঘোষণায় এসব বিষয়ে আলাদা বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।
নার্সিং পেশায় যারা বিশেষায়িত ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের জন্য রেনাল নার্সিং তুলনামূলক নতুন ও চাহিদাসম্পন্ন একটি ক্ষেত্র। হাসপাতাল ও ডায়ালাইসিস সেন্টারগুলোতে এই প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের কাজের সুযোগ বাড়ছে, ফলে কোর্সটি শেষ করা শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও তুলনামূলক ভালো থাকে।
সিলেট বিভাগের চার জেলা — সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ — থেকে আসা রোগীরা চিকিৎসার জন্য মূলত সিলেট শহরের ওপরই নির্ভরশীল। তাই শহরে বিশেষায়িত সেবার সক্ষমতা বাড়লে তার সুফল পৌঁছায় পুরো বিভাগের রোগীদের কাছে।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, যন্ত্র ও ওষুধের পাশাপাশি প্রশিক্ষিত জনবলই কিডনি চিকিৎসার সবচেয়ে বড় ঘাটতির জায়গা। সেই ঘাটতি পূরণে এমন কোর্স নিয়মিত চালু থাকলে ডায়ালাইসিস ইউনিটগুলোতে সেবার মান ধীরে ধীরে উন্নত হওয়ার কথা।
আগ্রহী প্রার্থীদের সময়মতো ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আসন সীমিত থাকলে দেরি করলে সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাই যোগ্যতা যাচাই করে আগেভাগেই যোগাযোগ করা ভালো হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
কোর্সটির পাঠ্যক্রম, ক্লাসের সময়সূচি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের বিস্তারিত ভর্তি প্রক্রিয়া শুরুর পর ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভর্তি সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্যের জন্য প্রার্থীদের ফাউন্ডেশনের ঘোষণার দিকে নজর রাখতে হবে।




