ইউক্রেনে পুরো গতিতে ফিরল স্টারলিংক, ড্রোন চালনায় স্বস্তি কিয়েভের
ইউক্রেনে আবার পুরো গতিতে ফিরে এসেছে স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক ও এর সামরিক সংস্করণ স্টারশিল্ড। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়েভহেনি খমারা শনিবার জানিয়েছেন, এই সংযোগ ফিরে আসায় ইউক্রেনের বাহিনী এখন আবার উচ্চ গতিতে ড্রোন পরিচালনা করতে পারছে।
খমারা সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় জানান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা বলছে স্টারলিংক ও স্টারশিল্ডের গতি পুনরুদ্ধার হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ঘণ্টায় ৪০০ কিলোমিটারের বেশি গতি পাওয়া যাচ্ছে এবং সংযোগ স্থিতিশীল রয়েছে।
গত সপ্তাহ থেকে স্টারশিল্ডে গতিসীমা আরোপ করা হয়েছিল বলে কিয়েভ জানিয়ে আসছিল। পেন্টাগন-অর্থায়িত এই সামরিক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের ওপর ইউক্রেন রুশ হামলা ঠেকাতে অনেকটাই নির্ভরশীল, ফলে গতিসীমায় ড্রোন পরিচালনা ও প্রতিরক্ষামূলক হামলার সক্ষমতা ব্যাহত হচ্ছিল।
শুক্রবার ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে গেলেই ড্রোনের সংকেত হারিয়ে যাচ্ছিল। অথচ বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্ক সেবাটি আবার ফিরিয়ে দিয়েছেন।
এই প্রসঙ্গটি শুক্রবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে তুলেছিলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামও। ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যেই এই গতিসীমা এসেছিল, যেখানে ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চলমান থাকার জন্য প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে দায়ী করে আসছেন।
খমারা বলেন, এই ফলাফল সম্মুখসারির জন্য, সামরিক সদস্যদের জন্য, ড্রোন পরিচালনা, সরবরাহ ও যোগাযোগের জন্য প্রাথমিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ শুধু ইন্টারনেটের গতি নয়, যুদ্ধক্ষেত্রের দৈনন্দিন কার্যক্রমের অনেকটাই এই সংযোগের ওপর নির্ভর করছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও জানান, তাঁর মন্ত্রণালয় স্টারলিংক ও স্টারশিল্ডের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি চালিয়ে যাবে। ফলে গতি আবার কমে গেলে তা দ্রুত শনাক্ত করার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
স্টারলিংক বেসামরিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা হিসেবে পরিচিত হলেও ইউক্রেন যুদ্ধে এর সামরিক সংস্করণ স্টারশিল্ড কিয়েভের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। রুশ আক্রমণ প্রতিহত করতে এই নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরতার কথা ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে।
গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই বিঘ্নের অবসান ইউক্রেনের বাহিনীর জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে ড্রোনভিত্তিক নজরদারি ও প্রতিরক্ষামূলক অভিযানে আগের গতি ফিরে পাওয়া কিয়েভের জন্য বড় বিষয়।
তবে এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, একটি বেসরকারি কোম্পানির স্যাটেলাইট সেবার ওপর একটি যুদ্ধরত দেশের প্রতিরক্ষা কতটা নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে এবং সেই সেবায় বিঘ্ন ঘটলে তার প্রভাব কত দ্রুত সম্মুখসারিতে পড়ে।
এখন দেখার বিষয়, পুনরুদ্ধার হওয়া এই গতি কতদিন স্থিতিশীল থাকে এবং ওয়াশিংটন-কিয়েভ সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সেবা নিয়ে নতুন কোনো অনিশ্চয়তা তৈরি হয় কি না।



