নাইরোবিতে নির্মাণাধীন বহুতল ভবন ধসে সাতজন নিখোঁজ, ধ্বংসস্তূপে চলছে তল্লাশি
কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে সাতজন আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাঁদের খোঁজে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে।
ঘটনার ভিডিওতে দেখা গেছে, ১৬ বা ১৮ তলা বলে মনে করা ভবনটির নিচের তলা প্রথমে ভেঙে পড়ে, তারপর পুরো ভবনটি গুঁড়িয়ে যায়। চারপাশের রাস্তায় ধুলোর বিশাল ঝড় ওঠে।
ধসের সময় ভবনের ওপরের তলাগুলোতে ডজনখানেক নির্মাণশ্রমিক কাজ করছিলেন। তাঁরা প্রায় সবাই বড় ধরনের আঘাত ছাড়াই বেরিয়ে আসতে পেরেছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিরা ভবনের নিচতলায় খোলা দোকানগুলোতে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভবনটি শুক্রবার বিকেলে ধসে পড়ে, তখনও নির্মাণকাজ চলছিল এবং বাইরের দিকে মাচান (স্ক্যাফোল্ডিং) মোড়ানো ছিল। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিচের তলাগুলোতে এরই মধ্যে ১১টি দোকান খোলা হয়েছিল।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কিপচুম্বা মুরকোমেন জানিয়েছেন, ধসের সময় ভবনে থাকা ৬৭ জন নির্মাণশ্রমিকের মধ্যে ৬৬ জন অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে এসেছেন। বাকি একজনের আঘাত প্রাণঘাতী নয়।
নাইরোবির ইস্টলে এলাকার ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা গেছে, ভবনের কংক্রিটের তলাগুলো একটির ওপর আরেকটি জমে আছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছাতে উদ্ধারকর্মীরা ধাতব অংশ কেটে পথ তৈরি করছেন।
খননযন্ত্র দিয়ে খোঁড়াখুঁড়ি করলে আটকে থাকা ব্যক্তিদের বাতাস পাওয়ার সুযোগ কমে যেতে পারে—এই আশঙ্কায় জরুরি সেবার কর্মীরা খননযন্ত্রের ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ফলে উদ্ধারকাজ আরও সতর্কভাবে এগিয়ে নিতে হচ্ছে।
ভবনটি হঠাৎ কেন ধসে পড়ল এবং এটি পরিকল্পনা-সংক্রান্ত বিধিবিধান মেনে তৈরি হচ্ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনা কেনিয়ায় নির্মাণের মান ও নিয়মকানুন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
কেনিয়ার জাতীয় নির্মাণ কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা প্রকল্পটির পেছনের কোম্পানি এবং এর স্থপতি ও কাঠামো প্রকৌশলীকে শনাক্ত করেছে। তবে শুক্রবারের আগ পর্যন্ত ওই স্থলে পরিদর্শন হয়েছিল কি না, তা বিবৃতিতে বলা হয়নি।
নাইরোবির গভর্নর সাকাজা জনসন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ভবনটি বসবাস বা ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভবনের মালিকদের ছিল না। তিনি জাতীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, অনুমোদিত ভবন পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা মান উপেক্ষা করা ডেভেলপারদের শাস্তি দেওয়ার বেশি ক্ষমতা স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হোক।
নাইরোবিতে ভবন ধসের ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। নিম্নমানের নির্মাণ বা ত্রুটিপূর্ণ পরিকল্পনাকে প্রায়ই এসব ঘটনার পেছনের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এখন সবার নজর উদ্ধার অভিযানের দিকে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করা যায় কি না, সেটাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন; পাশাপাশি এত বড় একটি ভবন কীভাবে ধসে গেল, সেই প্রশ্নের উত্তরও খুঁজছেন সংশ্লিষ্টরা।





