নতুন সীমান্ত সেতু পেরিয়ে চীন সফরে গেলেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন
সদ্য উন্মুক্ত একটি সীমান্ত সেতু দিয়ে চীনের ডাগুং শহরে পৌঁছেছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ এই তথ্য জানিয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এই সফরটি এমন এক সময়ে হলো, যার ঠিক এক সপ্তাহ আগে দুই দেশকে সংযোগকারী নতুন সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। সেতুটি চালুর ফলে এশিয়ার এই দুই মিত্র দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইয়োনহাপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “কিম আজ সকালেই ইয়ালু নদী সেতুর মাধ্যমে ডাগুংয়ে পৌঁছান।” অর্থাৎ নতুন সেতু চালুর পরপরই সেটি ব্যবহার করে চীনে যাওয়া প্রথম দিকের যাত্রীদের একজন হলেন উত্তর কোরিয়ার নেতা নিজেই, যা সফরটিকে প্রতীকী গুরুত্ব দিয়েছে।
চার লেনের এই সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছিল ২০১৪ সালেই। কিন্তু উত্তর কোরিয়া অংশে সংযোগ সড়ক ও কাস্টমসের সুবিধা না থাকায় এতদিন এটি চালু করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পড়ে থাকার পর অবশেষে সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
চীন হলো উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার। পাশাপাশি এই গোপনীয় রাষ্ট্রটির জন্য চীন কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহায়তার একটি প্রধান উৎস। যদিও দুই দেশের সম্পর্ক সবসময় সমানভাবে মসৃণ ছিল না, তবু নির্ভরতার এই কাঠামো দীর্ঘদিন ধরেই বজায় রয়েছে।
এর আগে কিমের সর্বশেষ চীন সফর ছিল ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। সে সময় তিনি বেইজিংয়ে ৮০তম বিজয় দিবস উদযাপনে যোগ দিতে গিয়েছিলেন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন।
দুই দেশের সুসম্পর্কের নিদর্শন হিসেবে গত জুনে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও উত্তর কোরিয়ায় একটি রাষ্ট্রীয় সফর করেছিলেন। শীর্ষ নেতৃত্বের এই পারস্পরিক সফরের ধারাবাহিকতায় কিমের এবারের ডাগুং সফরকে দুই দেশের ঘনিষ্ঠতার আরেকটি প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নতুন সেতুটি চালু হওয়ায় সীমান্ত বাণিজ্য ও যাতায়াতে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতির জন্য চীনের সঙ্গে স্থলপথে সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্যের বড় অংশই এই পথে হয়ে থাকে।
সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। কিম কার কার সঙ্গে বৈঠক করবেন কিংবা কত দিন চীনে থাকবেন, সে বিষয়ে উত্তর কোরিয়া বা চীনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি সূত্রের বরাতেই খবরটি প্রকাশ পেয়েছে বলে এই সফর নিয়ে অঞ্চলজুড়ে নজর রয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলো সাধারণত উত্তর কোরিয়ার নেতার বিদেশ সফর ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে, কারণ এসব সফর থেকে আঞ্চলিক কূটনীতির গতিপ্রকৃতির আভাস মেলে।
সব মিলিয়ে, নতুন সেতুর উদ্বোধনের এক সপ্তাহের মধ্যেই সেটি পেরিয়ে কিম জং উনের চীন সফর দুই মিত্র দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বার্তাই দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। সফর শেষে কোনো যৌথ ঘোষণা বা নতুন সহযোগিতার খবর আসে কি না, সেদিকেই এখন দৃষ্টি থাকবে।





