এল ক্লাসিকোর আগে ইতিহাসের ভয় দেখিয়ে মরিনিওকে সতর্ক করল কাতালান সংবাদমাধ্যম
এল ক্লাসিকো মানেই শুধু একটি ম্যাচ নয় — রিয়াল মাদ্রিদের কোচদের জন্য এটি অতীতে বহুবার ভবিষ্যৎ নির্ধারণী পরীক্ষা হয়ে উঠেছে। এবার সেই কঠিন বাস্তবতাই জোসে মরিনিওকে মনে করিয়ে দিয়েছে কাতালান সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভো। বার্সেলোনার কাছে হারের পর রিয়ালের একাধিক কোচের বিদায়ের ইতিহাস তুলে ধরে পর্তুগিজ কোচের ওপর চাপ বাড়িয়েছে পত্রিকাটি।
মুন্দো দেপোর্তিভোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্সার বিপক্ষে এল ক্লাসিকো অতীতে রিয়ালের কয়েকজন কোচের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এবারও সেই ইতিহাস সামনে এনে মরিনিওকে সতর্ক করেছে সংবাদমাধ্যমটি। ম্যাচটির গুরুত্ব বাড়িয়েছে পয়েন্ট টেবিলের হিসাবও — বার্সা জিতলে দুই দলের পয়েন্টের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়াবে ৯।
তবে মরিনিওর চাকরি এখনই হুমকির মুখে, এমন কোনো ইঙ্গিত নেই বলে প্রতিবেদনেই স্বীকার করা হয়েছে। রিয়াল বোর্ড প্রকাশ্যে তাঁর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তারপরও পরিস্থিতির অবনতি হলে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমের নাম কয়েকটি মহলে আলোচনায় এসেছে বলে জানিয়েছে মুন্দো দেপোর্তিভো।
ইতিহাসের সবচেয়ে তাজা উদাহরণটি রিয়ালের সাবেক কোচ জাবি আলোনসোর। গত মৌসুমে বার্সার কাছে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে হারের কয়েক দিন পরই তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে মাদ্রিদের ক্লাব কর্তৃপক্ষ। বার্সার কাছে হারের পর রিয়ালের কোচের দায়িত্ব হারানোর সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে আলোনসোর নামই উল্লেখ করেছে পত্রিকাটি।
২০১৮ সালে জুলেন লোপেতেগির বিদায়ের পেছনেও বড় ভূমিকা রেখেছিল এল ক্লাসিকোর হার। বার্সার কাছে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার আগে আতলেতিকো মাদ্রিদ, আলাভেস ও লেভান্তের বিপক্ষেও পয়েন্ট হারিয়েছিল রিয়াল। একের পর এক খারাপ ফলের চাপে ওই বছরের অক্টোবরেই তাঁকে বরখাস্ত করে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
জিনেদিন জিদানের উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া লোপেতেগি এর আগেও এক সংকটের মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন — রাশিয়া বিশ্বকাপ শুরুর আগে স্পেনের কোচের পদ থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল তাঁকে। সেই সংকটের পর রিয়ালে যোগ দিলেও দলকে প্রত্যাশিত সাফল্য এনে দিতে পারেননি তিনি, আর এল ক্লাসিকোর ভারী হারই হয়ে ওঠে তাঁর বিদায়ের শেষ ধাক্কা।
২০১৫ সালে রাফায়েল বেনিতেজের অধীনে নিজেদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে বার্সার কাছে ৪-০ গোলে হেরেছিল রিয়াল। ওই হার তাঁর ওপর চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। পরে দল টানা বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়ায় ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে বরখাস্ত করে ক্লাবটি।
বের্ন্ড শুস্টারের ঘটনাটি আরও ব্যতিক্রমী — তিনি বার্সার বিপক্ষে ম্যাচের আগেই রিয়ালের দায়িত্ব ছেড়েছিলেন। ক্যাম্প ন্যুতে গিয়ে রিয়ালের জয়ের সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তাঁর উত্তরসূরি হুয়ান্দে রামোসও কাতালানদের কাছে হার এড়াতে পারেননি; পরে নিজেদের মাঠে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে ৬-২ গোলে বিধ্বস্ত হয় রিয়াল।
মুন্দো দেপোর্তিভোর প্রতিবেদনে কার্লো আনচেলত্তির প্রসঙ্গও এসেছে। বার্সার কাছে কোপা দেল রের ফাইনালে হার তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলা ঘটনাগুলোর একটি ছিল বলে উল্লেখ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। পরে ব্রাজিলের কোচ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আনচেলত্তি।
সব মিলিয়ে কাতালান পত্রিকাটির বার্তা স্পষ্ট — এল ক্লাসিকোতে হার মানেই রিয়ালের ডাগআউটে ঝড়ের পূর্বাভাস। মরিনিওর সামনে তাই শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি এড়ানোর চ্যালেঞ্জও। বোর্ডের সমর্থন প্রকাশ্যে থাকলেও মাঠের ফলই শেষ কথা বলবে, আর সেই ফলের দিকেই এখন সবার চোখ।



