তিন দশকের দাবির পর রাবি স্টেশনে থামবে তিতুমীর ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস
দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবির পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) রেল স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে তিতুমীর এক্সপ্রেস ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস। শনিবার (২৪ অক্টোবর) থেকে ট্রেন দুটির এই যাত্রাবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান পরিচালন সুপারিনটেনডেন্টের সই করা একই তারিখের একটি চিঠিতেও ট্রেন দুটির যাত্রাবিরতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, যাত্রাবিরতি পাওয়া ট্রেন দুটি হলো ৭৩৪ নম্বর তিতুমীর এক্সপ্রেস ও ৭৬১ নম্বর সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস। এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি ফিরেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, দীর্ঘ তিন দশকের বিভিন্ন আন্দোলন ও দাবির পর তাঁরা এ যাত্রাবিরতি পাচ্ছেন। এ দাবির পক্ষে যাঁরা আন্দোলন করেছেন, লেখালেখি করেছেন এবং নীরবে সমর্থন দিয়েছেন, তাঁদের সবাইকে অভিনন্দন জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আম্মার আরও বলেন, তিতুমীর ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ছাড়া অন্য রাতের ট্রেনগুলোর ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে শাটল বাস দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে এবং প্রশাসন ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।
অন্য ট্রেনগুলোর যাত্রাবিরতির বিষয়ে রেল মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পারস্পরিক সম্প্রীতির ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে এই সুবিধা বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এমন কোনো আচরণ না করার জন্যও শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
এর আগে রাকসুর পক্ষ থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রেল স্টেশনে সব দূরপাল্লার ট্রেনের বাধ্যতামূলক যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনটি কার্যত অকার্যকর থাকায় শিক্ষার্থীদের ট্রেনে যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। রাতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করতেও দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি জানানো হচ্ছিল।
প্রসঙ্গত, প্রায় তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রেল স্টেশনটি। এত দিন পর সেখানে আন্তনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসসংলগ্ন স্টেশন থেকেই ট্রেনে ওঠানামা করতে পারবেন, যা তাঁদের যাতায়াতের ভোগান্তি অনেকটাই কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এখন শিক্ষার্থীদের নজর থাকবে বাকি ট্রেনগুলোর যাত্রাবিরতি ও শাটল বাসের সিদ্ধান্তের দিকে। রেল মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার পরবর্তী ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে দাবির বাকি অংশের ভবিষ্যৎ।




