ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বাস-কাভার্ডভ্যান মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত অন্তত ১৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে মহাসড়কের বেড়তলা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। সকালবেলার এই দুর্ঘটনায় মহাসড়কে সাময়িকভাবে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।
নিহতরা হলেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার কাজীপাড়া এলাকার আবু বক্করের ছেলে সৌরভ (৩২) এবং রংপুর সদর উপজেলার হরকলি চৌরাপাড়া এলাকার মুমিনুল ইসলামের ছেলে আছিম (১৮)। দুজনই বাসের যাত্রী ছিলেন।
খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রোকনুজ্জামান জানান, রংপুর থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী বাসটি সিলেটের দিকে যাচ্ছিল। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেড়তলা এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের ধাক্কায় বাসটি সড়ক বিভাজকের ওপর উল্টে যায়। উল্টে যাওয়া বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা গুরুতর আঘাত পান এবং ঘটনাস্থলেই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এসআই রোকনুজ্জামান আরও জানান, দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়।
আহত অন্তত ১৫ জনের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে আহতদের মধ্যে কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক কি না, সে সম্পর্কে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচল করে। ব্যস্ত এই সড়কে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি হয়ে থাকে।
দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি। বাস বা কাভার্ডভ্যানের কোনোটির গতি, চালকের অবস্থা বা সড়কের পরিস্থিতি নিয়ে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ ও আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর কাজই ছিল প্রথম অগ্রাধিকার। নিহত দুজনের পরিচয় পুলিশের দেওয়া তথ্য থেকেই নিশ্চিত হওয়া গেছে — একজন দিনাজপুরের পার্বতীপুরের, আরেকজন রংপুর সদরের বাসিন্দা।
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির এই ঘটনা আবারও মহাসড়কে নিরাপদ যাতায়াতের প্রশ্নটি সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাসযাত্রায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বের কথাও উঠে আসে এমন ঘটনার পর।
আহতদের চিকিৎসা চলমান রয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানা গেলে তা পাঠকদের জানানো হবে।





