এক বছরের শিশু কোহেনকে গুলি করে হত্যা: পদত্যাগ করলেন মিসিসিপির সেই পুলিশ কর্মকর্তা, সরে গেলেন অন্তর্বর্তী পুলিশপ্রধানও
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে এক বছর বয়সী শিশু কোহেন উইলিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। জুন মাসে একটি ওয়ালমার্টের পার্কিং লটে কথিত দোকানচুরির ঘটনায় ধাওয়ার সময় তিনিই সেই গুলিটি চালিয়েছিলেন, যাতে শিশুটির মৃত্যু হয়। সেনাটোবিয়ার মেয়র গ্রেগ গ্রেভস এবিসি নিউজকে এই পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করেছেন।
মেয়র শুক্রবার বিকেলে বলেন, ‘অল্ডারম্যানদের বোর্ড বুধবার, ২১ অক্টোবর তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে।’ তাঁকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছিল, নাকি তিনি নিজে থেকেই পদত্যাগ করেছেন—এই প্রশ্নে মেয়র কোনো মন্তব্য করেননি। সেনাটোবিয়া পুলিশ বিভাগের কাছেও মন্তব্য চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
পদত্যাগের এই খবর এলো তদন্তকারীদের পক্ষ থেকে ঘটনার বডি ক্যামেরা ফুটেজ প্রকাশের ঠিক পরপর। গত সোমবার মিসিসিপির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় তাদের তদন্তের ফল প্রকাশ করে জানায়, সেনাটোবিয়া পুলিশ বিভাগের বলপ্রয়োগ ছিল ‘ন্যায্য’ এবং এই ঘটনায় কোনো অভিযোগ আনা হবে না। সেই ফল প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার ১৪ জুনের ঘটনার বডিক্যাম ফুটেজ প্রকাশ করা হয়।
জুনে স্থানীয় গণমাধ্যমে হান্টার ফস্টার নামে চিহ্নিত ওই কর্মকর্তাকে মিসিসিপি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এমবিআই) তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক ছুটিতে রাখা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছিল।
ফস্টারের আইনজীবী মার্টিন জুমাখ শুক্রবার প্রকাশিত মন্তব্যে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেছেন, পালিয়ে যাওয়া গাড়িটি ফস্টারের দিকেই আসছিল বলে তাঁর ‘গুলি চালানো ছাড়া কোনো উপায় ছিল না’। তাঁর কাছে আরও মন্তব্য চাওয়া হলেও এই প্রতিবেদন পর্যন্ত জবাব মেলেনি।
অন্যদিকে কোহেনের পরিবারের প্রতিনিধিত্বকারী নাগরিক অধিকার আইনজীবী বেন ক্রাম্প বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ওই কর্মকর্তার আচরণকে ‘অতিরিক্ত’ বলে আখ্যা দেন। ক্রাম্পের যুক্তি, চালক কর্মকর্তাদের চাপা দিতে নয়, পালাতেই চাইছিলেন; পুলিশ গাড়ির নম্বর প্লেট নিয়ে পরে দোকানচুরির অভিযোগ তদন্ত করতে পারত। তাঁর ভাষ্য, কর্মকর্তার গুলি চালানোর প্রয়োজন ছিল না।
ক্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেন, ‘ডায়াপার চুরির অভিযোগের জেরে কোহেনকে হত্যা করা হয়েছে। কেউ অভিযুক্ত হলেও ডায়াপার চুরি একটি ছোট অপরাধ (মিসডিমিনর)। এটা মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য নয়। এক বছর বয়সী শিশু কোহেনের মৃত্যু তো কোনোভাবেই নয়।’ পরিবারটি এই ঘটনায় ফেডারেল তদন্তের দাবি জানাচ্ছে বলেও তিনি জানান।
বৃহস্পতিবার এমবিআই ওই গুলির ঘটনার বডি ক্যামেরা ফুটেজের পাশাপাশি সেনাটোবিয়া ওয়ালমার্টের নজরদারি ভিডিওও প্রকাশ করে। এবিসি নিউজের পর্যালোচনা করা বডিক্যাম ফুটেজে দেখা যায়, অস্ত্র উঁচিয়ে থাকা পুলিশের দিকে গাড়িটি এগিয়ে আসছে বলে মনে হওয়ার সময় কর্মকর্তা একাধিক গুলি চালান; গাড়িটি তখন পালানোর চেষ্টা করছিল।
ক্রাম্প জানান, গুলির সময় শিশুটি গাড়ির ভেতরেই ছিল—সঙ্গে ছিলেন তার মা এবং গাড়ি চালাচ্ছিলেন মায়ের এক বন্ধু। বৃহস্পতিবার ফুটেজটি জনসমক্ষে প্রকাশের আগে কোহেনের পরিবারের সদস্যরা ব্যক্তিগতভাবে তা দেখেন।
কোহেনের নানি ভেরোনিকা রবারসন বলেন, ভিডিওটি দেখে তিনি ‘বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ’ হয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘আজ সকালে আমি যে ভিডিওটি দেখলাম, তা আমাকে ক্ষুব্ধ করেছে। আমার মনে হয়েছে, আমাদের প্রতি অন্যায় করা হয়েছে। আমি দেখেছি, একজন কর্মকর্তা ওয়ালমার্টের ভেতর থেকে—কী ঘটছে তা না জেনেই—অস্ত্র উঁচিয়ে বাইরে ছুটে এসেছেন। এর কোনো যৌক্তিকতা নেই।’
মিসিসিপির গভর্নর টেট রিভস বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত ও পুলিশের পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, তিনি নিজে বডি ক্যামেরা ভিডিওটি দেখেননি, তবে এমবিআই ও রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের ওপর তাঁর ‘আস্থা’ রয়েছে। ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত মর্মান্তিক’ আখ্যা দিয়ে তিনি প্রাণ হারানো শিশুটি ও তাকে ভালোবাসা মানুষদের জন্য প্রার্থনার আহ্বান জানান। তবে রিভস যোগ করেন, তদন্তকারীরা দেখেছেন, ‘খুব স্পষ্ট ছিল’ যে গাড়ির চালক পুলিশ সদস্যকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
তবে এই ঘটনার ঢেউ পুলিশ বিভাগের নেতৃত্বেও লেগেছে। সেনাটোবিয়ার অন্তর্বর্তী পুলিশপ্রধান অ্যাঞ্জেলিকা মেজও পদত্যাগ করেছেন—মঙ্গলবারের বিবৃতিতে তিনি তদন্ত চলাকালে ধৈর্য ধরার জন্য জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশের অধিকারকে সম্মান জানানোর কথা বলেছিলেন। শুক্রবার মেয়র গ্রেভস তাঁর পদত্যাগের খবরও নিশ্চিত করেন, তবে পদত্যাগের কারণ ও সময়কাল স্পষ্ট নয়। মেয়র জানান, জুনে গুলির ঘটনার সময় মেজ প্রধান ছিলেন না; তিনি অন্তর্বর্তী প্রধান পদ থেকে সরে আগের পদে ফিরে গেছেন এবং ল্যামরিস হ্যাম্পটন হবেন নতুন অন্তর্বর্তী পুলিশপ্রধান। অ্যাটর্নি জেনারেলের ‘ন্যায্য’ সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য চাইলে সেনাটোবিয়া পুলিশের এক মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করেননি।





