মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মূলে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব: ইস্তাম্বুলে চার মুসলিম দেশের যৌথ বিবৃতি
মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরের অঞ্চলজুড়ে চলমান অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে দায়ী করেছে চারটি মুসলিমপ্রধান দেশ—সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিসর।
শুক্রবার তুরস্কের বৃহৎ শহর ইস্তাম্বুলে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা এই অবস্থান জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, অঞ্চলের সব সমস্যার পেছনে ইসরায়েলের দখলদারিত্বই দায়ী। দখলদারিত্ব অব্যাহত থাকায় সংকট কাটছে না, বরং নতুন নতুন উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে।
যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “বিশ্বজুড়ে যেসব অন্যায় হচ্ছে, সেগুলো আরও বাড়িয়ে তুলছে ইসরায়েলের সরকারি নীতি।” অর্থাৎ শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক পর্যায়ের অন্যায়-অবিচারের পেছনেও ইসরায়েলের নীতিকে দায়ী করেছেন চার পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
চার দেশ আবারও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের প্রতি নিজেদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। তাদের প্রস্তাবিত রাষ্ট্রটি হবে ১৯৬৭ সালের আগের সীমান্ত অনুযায়ী, যার রাজধানী হবে পূর্ব জেরুজালেম।
১৯৬৭ সালের সীমান্তভিত্তিক দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশের সমর্থিত অবস্থান। চার দেশের এই যৌথ বিবৃতি সেই অবস্থানকেই নতুন করে সামনে আনল।
বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের নানা প্রান্তে উত্তেজনা ও সংঘাতের খবর আসছে নিয়মিত। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে সমন্বিত কূটনৈতিক অবস্থান গড়ার চেষ্টা হিসেবেই এই যৌথ উদ্যোগকে দেখছেন পর্যবেক্ষকেরা।
সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিসর—চারটি দেশই মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্র। ফিলিস্তিন প্রশ্নে তাদের একসুরে অবস্থান জানানো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
বিবৃতিতে ইসরায়েলের সরকারি নীতির সমালোচনা করা হলেও পাল্টা কোনো প্রতিক্রিয়া ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনো জানা যায়নি।
এখন দেখার বিষয়, চার দেশের এই যৌথ অবস্থান আগামী দিনের আঞ্চলিক কূটনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে এটি কতটা ভূমিকা রাখে।



