হান্টার বাইডেনের ল্যাপটপ তদন্ত নিয়ে কংগ্রেসে মিথ্যা বলার অভিযোগে সাবেক দুই এফবিআই কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
হান্টার বাইডেনের ল্যাপটপসহ তাঁর বিরুদ্ধে চলা তদন্তে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে কংগ্রেসে মিথ্যা বলার অভিযোগে সাবেক দুই এফবিআই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলেকে নিয়ে করা তদন্তগুলোতে সম্পৃক্ততার কথা কংগ্রেসের কাছে অস্বীকার করেছিলেন তাঁরা—এমনটাই অভিযোগ।
অভিযুক্ত দুজন হলেন নিকি কোল ফ্লোরিস ও ব্র্যাডলি বেনাভিদেস। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনুযায়ী শুক্রবার দুজনেই আত্মসমর্পণ করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বেনাভিদেস কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে তিনি ল্যাপটপের ঘটনাটি সম্পর্কে উইকিপিডিয়া থেকে জেনেছেন; অথচ বিচার বিভাগের দাবি, তাদের কাছে প্রমাণ আছে যে তিনি এফবিআইয়ের অন্যদের সঙ্গে ল্যাপটপের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। একইভাবে ফ্লোরিস সাক্ষ্যের বিপরীতে বিচার বিভাগ বলছে, তাদের প্রমাণ অনুযায়ী তিনি এফবিআইয়ের ফরেন ইনফ্লুয়েন্স টাস্ক ফোর্সের সদস্যদের সঙ্গে হান্টার বাইডেন নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।
অভিযোগের পক্ষে কড়া ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন মার্কিন অ্যাটর্নি জেনিন পিরো। তিনি বলেছেন, ‘যেকোনো ব্যক্তির কংগ্রেসে মিথ্যা বলা আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার হৃদয়ে আঘাত করে; কিন্তু ঊর্ধ্বতন এফবিআই এজেন্টরা যখন নিজেদের আইনের ঊর্ধ্বে ভেবে কংগ্রেসে মিথ্যা বলেন, তখন ন্যায়ের হাতুড়ি নামানোর সময় এসেছে।’
পিরো আরও বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যখন কর্তব্যের বদলে প্রতারণা বেছে নেন, তখন তারা সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকেই দুর্বল করেন যেগুলো রক্ষার শপথ তারা নিয়েছিলেন। আজকের পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিয়েছে, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়, এবং যারা সত্যকে বাধা দেবে তাদের সবাইকে আমরা জবাবদিহির আওতায় আনব।’
এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল গ্রেপ্তারের বিষয়ে বলেছেন, ‘আজ সকালে এফবিআই এখন বিলুপ্ত ফরেন ইনফ্লুয়েন্স টাস্ক ফোর্সের সাবেক দুই সদস্য নিকি ফ্লোরিস ও ব্র্যাডলি বেনাভিদেসকে গ্রেপ্তার করেছে, যারা দুজনেই অভিযোগ অনুযায়ী ২০২০ সালের নির্বাচনসংক্রান্ত তদন্তের বিষয়ে ২০২৩ সালে কংগ্রেসে মিথ্যা বলেছিলেন।’
প্যাটেল দাবি করেছেন, অভিযুক্তদের একজন ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে ২০২০ সালের নির্বাচনের সময় ‘ছায়া সরকার চালানোর’ কথা বলেছিলেন বলে রেকর্ডে আছে। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা বারবার বলেছি: এই এফবিআইয়ে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার কখনোই সহ্য করা হবে না।’
তবে ফ্লোরিসের আইনজীবীরা অভিযোগ অস্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছেন। তাঁদের ভাষায়, ‘নিকি ফ্লোরিস একজন দেশপ্রেমিক। তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে নিবেদিতপ্রাণ এফবিআই গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে জাতির সেবা করেছেন। অথচ আজ বিচার বিভাগ রাজনীতিকদের কথায়, তথ্যের ভিত্তিতে নয়, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনেছে।’
আইনজীবীরা আরও বলেছেন, ‘এটা কোনো কাকতালীয় বিষয় নয় যে সরকার বছরের পর বছর পর, একটি নির্বাচনের প্রাক্কালে এই অর্থহীন অভিযোগগুলো আনছে।’ এর মধ্য দিয়ে মামলাটির সময় ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
হান্টার বাইডেনের ল্যাপটপ দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন রাজনীতিতে বিতর্কের কেন্দ্রে। সাবেক প্রেসিডেন্টের ছেলের বিদেশি সংযোগ ও ল্যাপটপকেন্দ্রিক তদন্তে এফবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে বারবার, আর সেই বিতর্কই এবার সাবেক দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগের রূপ নিয়েছে।
মামলাটি এখন আদালতের প্রক্রিয়ায় যাবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে মিথ্যা সাক্ষ্যের জন্য আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে পারেন দুই সাবেক কর্মকর্তা; আর অভিযোগ খারিজ হলে তা বিচার বিভাগের এই পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ককে আরও উসকে দেবে।
ঘটনাটি এখনো চলমান খবর হিসেবে বিকশিত হচ্ছে। নির্বাচনের আগে আগে এফবিআইয়ের সাবেক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যার প্রতিক্রিয়া সামনের দিনগুলোতে আরও স্পষ্ট হবে।






