বরিশালে ২ হাজার ৩৫ পিস ইয়াবাসহ চাকরিচ্যুত সাবেক সেনা সদস্য ও তার স্ত্রী গ্রেপ্তার
বরিশাল নগরীতে পৃথক অভিযানে দুই হাজার ৩৫ পিস ইয়াবাসহ চাকরিচ্যুত এক সাবেক সেনা সদস্য ও তার স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার নগরীর বগুড়া রোড ও কাশীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
বিষয়টি জানিয়েছেন কোতোয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লুৎফর রহমান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযান দুটি চালানো হয় একই দিনে, দুটি আলাদা এলাকায়, এবং দুই জায়গা মিলিয়েই ইয়াবা ও নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে।
আটক দুজন হলেন বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিহারীপুর গ্রামের বেল্লাল হোসেন রাতুল (২৮) ও তার স্ত্রী লামিয়া আক্তার (২৬)। পুলিশের অভিযানে দুজনকেই আসামি হিসেবে পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রথম অভিযানটি চালানো হয় বগুড়া রোডের সালাম সাইকেল স্টোরের সামনে। সেখান থেকে ২৩৫ পিস ইয়াবাসহ রাতুল ও লামিয়াকে আটক করা হয়।
এরপর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অভিযান চালানো হয় কাশীপুর ফিশারী রোডের ভাড়া বাসায়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে আরও এক হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা ও নগদ এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। দুই অভিযান মিলিয়ে মোট ইয়াবার সংখ্যা দাঁড়ায় দুই হাজার ৩৫ পিস।
পরিদর্শক লুৎফর রহমান জানান, রাতুল আগে সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। মাদক সেবন ও বিক্রিতে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। পুলিশের দাবি, এরপর তিনি মাদক বিক্রিতে জড়িয়ে পড়েন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। অর্থাৎ এই ঘটনাটি তাদের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ নয়, বরং আগের মামলাগুলোর ধারাবাহিকতায় নতুন করে আটকের ঘটনা ঘটল।
লুৎফর রহমান আরও জানান, গত মার্চেও ইয়াবাসহ রাতুলকে আটক করেছিল পুলিশ। ওই মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
এবারের ঘটনায় বরিশাল মহানগর পুলিশের কোতোয়ালী ও এয়ারপোর্ট থানায় আলাদা দুটি মামলা হয়েছে। দুটি মামলাতেই রাতুল ও তার স্ত্রীকে আসামি করা হয়েছে।
দুটি থানায় আলাদা মামলা হওয়ার কারণ দুটি অভিযানের এলাকা আলাদা। একটি অভিযান কোতোয়ালী এলাকায়, আরেকটি এয়ারপোর্ট থানা এলাকার কাশীপুরে চালানো হয়েছে বলেই মামলা দুটি ভাগ হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
গ্রেপ্তারের পর এখন আইনি প্রক্রিয়ার দিকেই নজর থাকবে। দুটি মামলায় তদন্ত কত দূর এগোয় এবং আদালতে তাদের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটাই পরবর্তী ধাপে জানা যাবে।





