শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়ে মাইকিং: নওগাঁর মান্দায় গ্রেপ্তার ২, অটোরিকশা জব্দ
নওগাঁর মান্দায় অটোরিকশায় মাইকিং করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়ার ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার কাশোপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া মাইকিংয়ের কাজে ব্যবহৃত অটোরিকশাটি জব্দ করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন উপজেলার কাশোপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ও রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল জলিল প্রামাণিকের ছেলে শহিদুল ইসলাম শহীদ এবং মান্দা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও নবগ্রাম তালবোনার মৃত গামা সরকারের ছেলে আব্দুল জলিল (৫০)।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসছেন বলে কয়েকজন ফাঁকা মাঠে মাইকিং করেন। পরে মাইকিংয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি চলমান ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় এক যুবক মাইক লাগিয়ে প্রকাশ্যে এই প্রচারণা চালাচ্ছেন। মাইকিংয়ের শুরুতে মান্দা উপজেলাবাসীকে আসসালামু আলাইকুম এবং অন্যান্য ধর্ম ও জাতির ভাইদের আদাব ও শুভেচ্ছা জানানো হয়।
এরপর প্রচারণায় দাবি করা হয়, আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পাঁচবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশের মাটিতে পদার্পণ করবেন। এ সময় দলমত নির্বিশেষে তাকে স্বাগত জানানোর আহ্বান জানিয়ে 'জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু' স্লোগান দিয়ে মাইকিং শেষ করা হয়।
মান্দা থানা পুলিশের ওসি আফজাল হোসেন বলেন, বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার দুজন এই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল যখন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে এবং দলটির সভাপতির দেশে ফেরা নিয়ে নানা গুঞ্জন ও প্রচারণা সামাজিক মাধ্যমে ঘুরছে। মাঠে মাইকিং করে সেই প্রচারণা চালানোই পুলিশের অভিযানের কারণ হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরই তারা তৎপর হয় এবং কাশোপাড়া এলাকা থেকে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে। জব্দ করা অটোরিকশাটি ছিল মাইকিংয়ের বাহন।
গ্রেপ্তার দুজনের একজন ছাত্রলীগের ইউনিয়ন সভাপতি এবং অপরজন স্বেচ্ছাসেবক লীগের ইউনিয়ন সভাপতি — দুজনই নিষিদ্ধ কার্যক্রমের দলটির অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতা। তাদের স্বীকারোক্তির কথা পুলিশ জানিয়েছে।
আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়াই এখন পরবর্তী ধাপ। মামলার আনুষ্ঠানিক বিবরণ ও কোন ধারায় মামলা হয়েছে, তা পুলিশের পরবর্তী বক্তব্যে স্পষ্ট হবে।
স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ ফাঁকা মাঠে করা মাইকিংয়ের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পরই তা প্রশাসনের নজরে আসে এবং গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে।
শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে ফেরার দাবির কোনো আনুষ্ঠানিক ভিত্তি এই খবরে উল্লেখ করা হয়নি; পুলিশের পদক্ষেপ ছিল মাইকিং করে সেই ঘোষণা প্রচারের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া আদালতেই এগিয়ে যাবে।




