লঞ্চ থেকে পড়ে নিখোঁজের ৫ দিন পর মেঘনার চরে মিলল সোহেলের লাশ, শনাক্ত করলেন ভাই
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীর তীর থেকে সোহেল ব্যাপারী (২৪) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার হিজলা গৌরবদী ইউনিয়নের আরাকুল গ্রামের মান্দারভাঙ্গা এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
গত ১৮ অক্টোবর চাঁদপুর এলাকায় লঞ্চ থেকে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন সোহেল। পাঁচ দিন ধরে তাঁর কোনো খোঁজ পায়নি পরিবার।
সোহেল ব্যাপারী শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আরব আলী ব্যাপারীকান্দি গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেন ব্যাপারীর ছেলে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর বন্ধু রবিউল ইসলামের সঙ্গে সখিপুর থানার নরসিংহপুর ফেরিঘাট থেকে লঞ্চে ঢাকায় যান সোহেল। পরদিন ১৮ অক্টোবর রাতে তাঁরা লঞ্চে করে ঢাকা থেকে নরসিংহপুর ফেরিঘাটের উদ্দেশে রওনা হন। পথে চাঁদপুর এলাকায় নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন সোহেল।
এ ঘটনায় ১৯ অক্টোবর সোহেলের পরিবার চাঁদপুর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিটি চাঁদপুরের আলুবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে তদন্তাধীন রয়েছে।
হিজলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সোহেলের পরিবারের সদস্যরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে আরাকুল গ্রামের মান্দারভাঙ্গা এলাকায় মেঘনা নদীর চরে একটি মরদেহ ভেসে থাকার খবর দেন।
পরে হিজলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) শাহজাদা ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত ১টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করেন। এ সময় সোহেলের বড় ভাই আজিজুল ইসলাম ও স্বজনেরা মরদেহটি শনাক্ত করেন।
হিজলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইয়াছিনুল হক বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। চাঁদপুর সদর থানায় করা আগের জিডির তদন্তও চলমান রয়েছে।
নৌপথে লঞ্চযাত্রায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনার মধ্যে এই ঘটনা আবারও সেই প্রসঙ্গ সামনে এনেছে। রাতের যাত্রায় লঞ্চ থেকে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার পর পাঁচ দিন পেরিয়ে লাশ উদ্ধারের এই ঘটনায় স্বজনদের অপেক্ষার অবসান ঘটলেও প্রশ্ন থেকে গেছে যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে।




