তুরস্কের কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে নিহত ২, আহত ৫: এখনও ভেতরে আটকা ১ শ্রমিক
তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে অন্তত দুজন খনি শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। শুক্রবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আরও একজন শ্রমিক এখনও খনির ভেতরে আটকা রয়েছেন।
বিস্ফোরণটি ঘটেছে গেলিক শহরের একটি খনিতে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, বিস্ফোরণের কারণ ছিল 'ফায়ারড্যাম্প' অর্থাৎ দাহ্য গ্যাস।
জংগুলদাকের গভর্নর ওসমান হাচিবেকতাসোগলু বলেন, 'সুড়ঙ্গে আটজন ছিলেন, সাতজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে হাসপাতালে নেওয়ার পর আমাদের দুজন খনি শ্রমিক মারা গেছেন।'
আহত পাঁচজনের মধ্যে দুজন পোড়া ক্ষত নিয়ে গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন। গুরুতর আহতদের একজনকে ইতিমধ্যে আঙ্কারায় স্থানান্তর করা হয়েছে এবং দ্বিতীয়জনকে স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
গভর্নর আরও বলেন, 'একজন খনি শ্রমিক এখনও খনির ভেতরে রয়েছেন। আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছি এবং তাকে বের করে আনার চেষ্টা করছি।' আটকে পড়া শ্রমিককে জীবিত উদ্ধারের চেষ্টাই এখন অভিযানের কেন্দ্রে।
বিস্ফোরণটি ঘটে সকাল প্রায় ১০টার দিকে। জরুরি কল পাওয়ার পর দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আফাদের দলসহ চিকিৎসা ও দমকল দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সংবাদপত্র পুসুলা অনুযায়ী, বিস্ফোরণটি ঘটেছে দেমির মাদেনজিলিকের মালিকানাধীন একটি বেসরকারি খনিতে। বিস্ফোরণের সঠিক কারণ নির্ধারণে তদন্ত শুরু হয়েছে।
তুরস্কে খনি দুর্ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। এই মাসের শুরুতেই পশ্চিম তুরস্কের মানিসার সোমায় একটি কয়লা খনি ধসে পাঁচজন নিহত হয়েছিলেন।
শ্রমিক স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষেত্র নিরাপত্তা পরিষদ আইএসআইজি নামের একটি স্বাধীন পর্যবেক্ষণ গোষ্ঠীর হিসাব অনুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ১ হাজার ২৬৭ জন খনি শ্রমিক নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই ধস ও দমবন্ধ হয়ে মারা গেছেন।
সেই দীর্ঘ প্রাণহানির তালিকার পটভূমিতেই গেলিকের এই বিস্ফোরণ খনি নিরাপত্তা নিয়ে পুরোনো প্রশ্নগুলো আবার সামনে এনেছে। বেসরকারি খনিতে গ্যাস পর্যবেক্ষণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, তদন্তে তা খতিয়ে দেখা হবে।
উদ্ধারকর্মীরা আটকে পড়া শ্রমিকের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে তাকে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার অবস্থা ও উদ্ধারের অগ্রগতি নিয়েই এখন সবার দৃষ্টি।
তদন্ত শেষ হলে বিস্ফোরণের কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যাবে। ততক্ষণ পর্যন্ত নিহত দুই শ্রমিকের পরিবারের শোক আর আটকে পড়া সহকর্মীর জন্য অপেক্ষাই গেলিকের খনি এলাকার বাস্তবতা।





