ফরিদপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে বাস-অ্যাম্বুলেন্স মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত কয়েকজন
ফরিদপুরের মধুখালীতে যাত্রীবাহী বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার আড়কান্দী এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে, যা মুহূর্তেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে দেয়।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, অ্যাম্বুলেন্সটিতে মোট ছয়জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে ঘটনাস্থলেই দুজন পুরুষ ও একজন নারী প্রাণ হারান। রোগী বহনের কাজে ব্যবহৃত একটি অ্যাম্বুলেন্সের এভাবে দুর্ঘটনার কবলে পড়া এবং ভেতরে থাকা মানুষদের মৃত্যু ঘটনাটিকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক খবরে আহতের সংখ্যা অন্তত তিনজন বলা হলেও, বিভিন্ন খবরে আহতের সংখ্যা আরও বেশি বলা হয়েছে।
দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মধুখালী ফায়ার সার্ভিসের সহকারী কর্মকর্তা মো. শামীম রেজা। তিনি জানিয়েছেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ চলছে বলে জানা গেছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। আহতদের চিকিৎসা হাসপাতালে চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হবে—বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ কীভাবে ঘটল, কোনো যানবাহন ভুল লেনে ছিল কি না, গতি কতটা ভূমিকা রেখেছে—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তে উঠে আসবে।
ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের অন্যতম প্রধান পথ। এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী যানবাহন ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচল করে। ব্যস্ত এই সড়কে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা প্রায়ই বড় প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
স্থানীয়দের ভাষ্যে, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের ওই অংশে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। উদ্ধারকাজ ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ধীরে ধীরে চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড়ও জমে।
অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনার এই ঘটনা আবারও জরুরি যানবাহনের নিরাপদ চলাচল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অসুস্থ বা সংকটাপন্ন রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার পথেই যদি অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় পড়ে, তাহলে সেই যাত্রা রোগী ও স্বজনদের জন্য দ্বিগুণ বিপদের হয়ে ওঠে।
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বাংলাদেশের একটি দীর্ঘদিনের উদ্বেগ। মহাসড়কে বেপরোয়া গতি, ভুল লেনে চলাচল ও মুখোমুখি সংঘর্ষ বারবার বড় দুর্ঘটনার পেছনে কারণ হিসেবে উঠে আসে। মধুখালীর এই ঘটনাও সেই একই ধারাবাহিকতার মর্মান্তিক উদাহরণ হয়ে রইল।
নিহতদের পরিচয় ও আহতদের সর্বশেষ অবস্থা জানতে স্বজনেরা হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ নিচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পেলে ঘটনার চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
আপাতত তিনজনের মৃত্যুর শোক ছড়িয়ে পড়েছে তাদের পরিবারে। তদন্ত শেষে দায় নির্ধারণ ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।




