রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিল আটকে গেল ট্রাম্পের চাপে, নিজ দলেই সতর্কবার্তা—পুতিনের ওপর চাপ কমছে
রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি ব্যাপক দ্বিদলীয় বিল যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে আটকে গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার মিত্রদের বিলটি আপাতত এগিয়ে না নিতে চাপ দেওয়ার পর এর গতি থেমে গেছে, আর রিপাবলিকান শিবিরের ভেতর থেকেই সতর্কবার্তা উঠছে — পুতিনের ওপর মার্কিন চাপ ক্রমেই আলগা হয়ে যাচ্ছে।
বিলটিতে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনে এমন দেশগুলোর ওপর মোটা অঙ্কের শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু রুশ প্রতিষ্ঠানের ওপর সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিধানও রাখা হয়েছে এতে।
বিলটির উদ্যোক্তা প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ও ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল। গ্রাহাম প্রায় এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন, যেখানে সিনেটে বিলটির ওপর ভোট আয়োজনে বাধ্য করার মতো যথেষ্ট রিপাবলিকান সমর্থন তার হাতে ছিল।
কিন্তু ট্রাম্পের সঙ্গে এক ফোনালাপের পরই গতি থেমে যায়। গ্রাহাম জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট তাকে আপাতত অপেক্ষা করতে বলেছেন এবং তিনি তাতে রাজি হয়েছেন। গ্রাহামের ভাষায়, ‘আমি তার বিচারবুদ্ধির ওপর আস্থা রাখি।’ পরিকল্পিত পদ্ধতিগত কৌশলটিও তাই স্থগিত রাখা হয়েছে।
সিনেটের মেজরিটি লিডার জন থুন গত সপ্তাহে বলেছিলেন, ৩০ দিনের মধ্যে বিলটির ওপর ভোট হতে পারে। কিন্তু এখন তার সুর অনিশ্চিত — ‘সুযোগের কোনো জানালা তৈরি হলে আমরা ঝাঁপিয়ে পড়ব,’ বললেও কোনো সময়সীমা দেননি তিনি।
প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনও জানিয়ে দিয়েছেন, সিনেট আগে অগ্রসর না হলে হাউস কোনো পদক্ষেপ নেবে না। ফলে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই বিলটির ভবিষ্যৎ আপাতত ঝুলে রইল।
ট্রাম্পের যুক্তি, কংগ্রেসের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার চেয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততাই বেশি কার্যকর। এ মাসের শুরুতেই পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি; আরেকটি শীর্ষ বৈঠকের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে, যদিও সেটি কোথায় হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লিভিট বলেছেন, প্রয়োজন মনে করলে প্রেসিডেন্টের অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা এমনিতেই রয়েছে।
তবে সমালোচকেরা বলছেন, ট্রাম্প নরম হয়ে যাচ্ছেন। বিলটির ডেমোক্র্যাট সহ-উদ্যোক্তা সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল অভিযোগ করেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথম দিনেই যুদ্ধ শেষ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে এখন পুতিনকে সুবিধা দিচ্ছেন।’
ইউক্রেনের নেতাদের ওপর ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তার প্রশ্নে ছাড় দেওয়ার জন্য ট্রাম্প চাপ দিয়েছেন বলে খবর প্রকাশের পর এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
রিপাবলিকান প্রতিনিধি ডন বেকনও সরব হয়েছেন। তার ভাষায়, ‘প্রতিটি বিলম্ব পুতিনকে ইউক্রেনীয়দের হত্যা করার জন্য আরও এক সপ্তাহ সময় করে দেয়।’
ইউরোপীয় মিত্ররা নিজেরা অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা এগিয়ে নিলেও, ওয়াশিংটনের এই টালবাহানায় ইউরোপীয় কূটনীতিকেরা ব্যক্তিগত পর্যায়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
সব মিলিয়ে বিলটি এখনো বেঁচে আছে, তবে সিনেটে এর ওপর ভোটের কোনো সময়সূচি নেই। রাশিয়ার ওপর চাপের অন্যতম প্রধান হাতিয়ারটি আটকে রইল যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির হিসাব-নিকাশেই।






