ভাটারায় নির্মাণাধীন ভবনে নিরাপত্তাকর্মীর মরদেহ উদ্ধার, গলায় আঙুলের ছাপে হত্যার সন্দেহ
রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে আলমগীর হোসেন (৫২) নামে এক নিরাপত্তাকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তাঁকে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত আটটার দিকে নির্মাণাধীন ওই ভবনের একটি টিনের ছাপরা ঘর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আলমগীর ওই ভবনেই নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন এবং সেখানেই থাকতেন।
ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল ওয়াদুদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাপরা ঘর থেকে আলমগীরের মরদেহ উদ্ধার করে।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের গলায় আঙুলের ছাপ স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। এ ছাড়া তাঁর ডান পায়ের হাঁটুর নিচে ক্ষত এবং কানের পাশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
শরীরের এসব আলামত দেখেই পুলিশের ধারণা তৈরি হয়েছে যে দুর্বৃত্তরা তাঁকে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করে থাকতে পারে। তবে এটি এখনো প্রাথমিক ধারণা; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে ময়নাতদন্তের পর।
নিহত আলমগীর হোসেন নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার সাইলকোনা গ্রামের প্রয়াত কলিম উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে। কর্মসূত্রে তিনি রাজধানীর ভাটারায় ওই নির্মাণাধীন ভবনেই বসবাস করতেন।
কে বা কারা, কেন তাঁকে হত্যা করে থাকতে পারে — সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কারও গ্রেপ্তারের খবর জানায়নি পুলিশ।
নির্মাণাধীন ভবনে একা থাকা একজন নিরাপত্তাকর্মীর এমন মৃত্যুকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন উঠছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করবে পুলিশ — এমনটাই প্রত্যাশিত।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং পুলিশের পরবর্তী তদন্তের ওপরই এখন নির্ভর করছে এই মৃত্যুর আসল কারণ ও এর পেছনের ব্যক্তিদের পরিচয়। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা পাঠকদের জানানো হবে।





