যশোর জেনারেল হাসপাতালে ৪০ লাখ টাকার চিকিৎসা সামগ্রী দিলেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের রোগীদের জন্য ৪০ লাখ টাকার চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এসব সামগ্রী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিয়েছেন।
আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে স্থানীয় সার্কিট হাউসের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জনের কাছে এসব চিকিৎসা সামগ্রী হস্তান্তর করেন।
হস্তান্তরের সময় প্রতিমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দিয়ে বলেন, হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা যেন এই চিকিৎসা সামগ্রী সঠিকভাবে এবং বিনা মূল্যে পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। রোগীদের হাতে সামগ্রী পৌঁছানোই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে ‘হিউম্যান অ্যাপিল ইউএসএ’র সহযোগিতায়। আন্তর্জাতিক এই সহায়তা সংস্থার সহযোগিতায় সংগৃহীত সামগ্রীই হাসপাতালের রোগীদের জন্য দেওয়া হলো।
বিতরণ করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ব্যথার ইনজেকশন, বয়স্ক রোগীদের জন্য প্যাম্পাস, গ্লাভস, ক্যানোলা, চিকিৎসকদের পোশাকসহ অপারেশন থিয়েটার (ওটি)র কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী। প্রতিদিনের চিকিৎসা সেবায় এসব জিনিসের প্রয়োজন পড়ে সবচেয়ে বেশি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন।
এ ছাড়া যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত, সিভিল সার্জন মাসুদ রানা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রামার আরিফ নূর এবং সাংবাদিক আবদুল কাদেরসহ অন্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালটি আড়াই শ শয্যার হলেও বাস্তবে এখানে ৫০০ শয্যার রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ রোগীর চাপ সামলাতে হয় এই হাসপাতালকে প্রতিদিন।
এই অতিরিক্ত চাপের মধ্যে বিপুলসংখ্যক ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর সংকট নিয়েও হাসপাতালটি রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সংকটের মধ্যেই এই ৪০ লাখ টাকার সামগ্রী পাওয়ায় রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সুবিধা হবে।
জেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ওষুধ ও সরঞ্জাম সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। রোগীদের অনেক সময় বাইরে থেকে ওষুধ ও সামগ্রী কিনতে হয়, যা দরিদ্র রোগীদের জন্য বাড়তি বোঝা। বিনা মূল্যে সামগ্রী বিতরণ নিশ্চিত হলে সেই বোঝা কিছুটা হলেও কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এখন দেখার বিষয়, হস্তান্তর করা এই সামগ্রী প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকৃতপক্ষে রোগীদের হাতে বিনা মূল্যে পৌঁছায় কি না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপরই এখন সেই দায়িত্ব বর্তেছে।





