ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামে আরও এক শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮১
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮১ জন শিশুর মৃত্যু হলো — যা স্থানীয়ভাবে শিশুদের এই সংক্রমণের ভয়াবহতা নতুন করে সামনে এনেছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো. মাইনউদ্দিন খান এই তথ্য জানান। হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনিই সর্বশেষ পরিসংখ্যান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
মারা যাওয়া শিশুটি একটি মেয়ে, বয়স মাত্র আট মাস। তার বাড়ি ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামের পাশাপাশি শিশুটি নিউমোনিয়ায়ও আক্রান্ত ছিল — দুটি অসুস্থতা একসঙ্গে হওয়ায় তার অবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়ে।
শুধু মৃত্যুই নয়, আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩৯ জন শিশু হাম উপসর্গ নিয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিনই নতুন নতুন শিশু হাসপাতালে আসছে।
একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৮ জন শিশু। চিকিৎসকেরা প্রতিদিনই শিশুদের সুস্থ করে বাড়ি পাঠাচ্ছেন, কিন্তু নতুন ভর্তির সংখ্যা তার চেয়ে বেশি হওয়ায় হাসপাতালের ওপর চাপ কমছে না।
বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন আছে ১৭২ জন শিশু। এই বিশাল সংখ্যক শিশু রোগীর চিকিৎসা সামলাতে হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলোতে প্রতিদিনই ব্যস্ততা চলছে।
হাসপাতালের হিসাব বলছে, গত ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে মোট ৫ হাজার ৩৯৭ জন শিশু এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। সাত মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই ধারাই বুঝিয়ে দেয়, সংক্রমণটি এক জায়গায় থেমে নেই।
এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে ৫ হাজার ১৪৫ জন শিশু। অর্থাৎ চিকিৎসা নেওয়া শিশুদের বেশিরভাগই সুস্থ হয়েছে — কিন্তু যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের সংখ্যা ৮১-তে পৌঁছানো উদ্বেগের বড় কারণ।
মাত্র আট মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু থেকে বোঝা যায়, সবচেয়ে ছোট ও দুর্বল শিশুরাই এই সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে। হামের সঙ্গে নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা যুক্ত হলে সেই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিশুরা এই হাসপাতালে আসছে — সর্বশেষ মারা যাওয়া শিশুটি এসেছিল ত্রিশাল উপজেলা থেকে। ফলে এটি শুধু শহরের সমস্যা নয়, আশপাশের উপজেলাগুলোতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে থাকার ইঙ্গিত মিলছে।
অভিভাবকদের জন্য এই পরিসংখ্যান একটি সতর্কবার্তা। শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং জটিলতা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি করণীয়।
এখন সবার নজর থাকবে সংক্রমণের ধারা কমে আসে কি না সেদিকে। প্রতিদিনের ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যাই বলে দেবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে, নাকি ময়মনসিংহ অঞ্চলে হামের এই প্রাদুর্ভাব আরও দীর্ঘ হচ্ছে।





