হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মন্ত্রী আবদুল মঈন খানকে দেখতে গেলেন রাষ্ট্রপতি, খোঁজ নিলেন চিকিৎসার
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে গিয়েছেন। শুক্রবার সকালে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে যান।
এ সময় রাষ্ট্রপতি মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। রাষ্ট্রপ্রধানের এই সাক্ষাৎ অসুস্থ মন্ত্রীর পরিবার ও চিকিৎসকদের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ ছিল।
ড. আবদুল মঈন খান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী। হঠাৎ বুকে ব্যথার কারণে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি হন বলে জানা গেছে।
বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে উদ্বেগ ছিল। রাষ্ট্রপতির সরাসরি হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ নেওয়ার খবরে সেই উদ্বেগের মধ্যেও স্বস্তির বার্তা পৌঁছেছে।
রাষ্ট্রপতি হাসপাতালে গিয়ে মন্ত্রীর চিকিৎসার সার্বিক বিষয়ে খোঁজ নেন। চিকিৎসাধীন একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর পাশে রাষ্ট্রপ্রধানের উপস্থিতি রাজনৈতিক সৌজন্যেরও প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একই সময়ে বিএনপির আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা ও সরকারের ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাঁকে রাজশাহী থেকে ঢাকায় এনে পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে সরকারের দুই মন্ত্রীর অসুস্থতা একই সময়ে আলোচনায় এসেছে।
দুই জ্যেষ্ঠ নেতার একসঙ্গে হাসপাতালে থাকার খবরে দল ও সরকারের ভেতরে তাঁদের সুস্থতা নিয়েই এখন প্রধান আলোচনা। সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন।
মঈন খান দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় রাজনীতির সামনের সারির নেতা। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্বে থাকায় তাঁর অসুস্থতায় মন্ত্রণালয়ের কাজের ধারাবাহিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এই খবরে নেই।
রাষ্ট্রপতির সফর ছিল সংক্ষিপ্ত ও সৌজন্যমূলক — শুক্রবার সকালে হাসপাতালে গিয়ে তিনি মন্ত্রীর অবস্থা জেনে নেন, চিকিৎসার খোঁজ নেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করে ফিরে আসেন।
হাসপাতাল বা পরিবারের পক্ষ থেকে মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত মেডিকেল বুলেটিন এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তাঁর চিকিৎসা কতদিন চলবে বা তিনি কবে দায়িত্বে ফিরতে পারবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সিসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার তথ্য থেকেই বোঝা যায়, চিকিৎসকেরা তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। বুকে ব্যথার ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাই চিকিৎসার প্রথম ধাপ হয়ে থাকে।
এখন সবার নজর থাকবে মঈন খানের শারীরিক অবস্থার পরবর্তী আপডেটের দিকে। রাষ্ট্রপতির শুভকামনার পর দল, সরকার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের একটাই প্রত্যাশা — তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার দায়িত্বে ফিরুন।






