মেসিকে একনজর দেখতে নিজের হাত কাটলেন ভক্ত, ওবিয়েদোতে তারকা-ঝড়
স্পেনে এসেছেন লিওনেল মেসি, তবে এবার ফুটবল মাঠের জন্য নয়। প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার নিতে চিরচেনা দেশটিতে এসেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ওবিয়েদো শহরে স্ত্রী আন্তোনেলাকে নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন তিনি, আর তাকে একনজর দেখতে সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন হাজারো ভক্ত — এক ভক্ত তো মেসিকে দেখার জন্য নিজের হাতই কেটে ফেলেছেন।
হাজারো ভক্তের উল্লাস আর করতালির মধ্যে মেসিকে স্বাগত জানানো হয়। সকাল ৭টার দিকে ওবিয়েদোতে পৌঁছে হোটেল দে লা রেকনকিস্তায় ওঠেন মেসি। কিছুক্ষণের মধ্যেই হোটেলের প্রধান প্রবেশপথ ভরে যায় ভক্ত ও সাংবাদিকদের ভিড়ে।
কক্ষে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর কালো রঙের আনুষ্ঠানিক পোশাক পরে বাইরে বেরিয়ে আসেন মেসি। ভক্তদের সঙ্গে ছবি তোলেন তিনি, আর্জেন্টিনা জাতীয় দল ও বার্সেলোনার জার্সি, পতাকাসহ নানা জিনিসে দেন অটোগ্রাফ। ভক্তদের কাছ থেকে অনেক উপহারও পেয়েছেন এই ফুটবল জাদুকর, যার মধ্যে ছিল আর্জেন্টিনার মিষ্টি ও কর্নস্টার্চ দিয়ে তৈরি আলফাখোরেস নামের বিশেষ বিস্কুটের একটি ট্রে।
শহরের কেউই মেসিকে দেখার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি। টিওয়াইসি স্পোর্টস তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, মেসিকে কাছ থেকে দেখতে যেন কাজে যেতে না হয়, সে জন্য অফিস থেকে ছুরি নিয়ে ইচ্ছা করে নিজের হাত কেটেছেন এক তরুণ ভক্ত। ঘটনাটি মেসিকে ঘিরে ভক্তদের উন্মাদনার মাত্রা কতটা, তারই নজির হয়ে উঠেছে।
পুরস্কার উপলক্ষে মেসির কর্মসূচিও ঠাসা। স্পোর্টস প্যালেসে শিক্ষার্থী শিশু-কিশোরদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি। হোটেলে পুরস্কারের অন্য বিজয়ীদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন, সেখানে আস্তুরিয়াসের রাজকুমারী লিওনর দে বোরবন ই ওর্তিথ তাকে স্মারক পিন উপহার দেবেন। সন্ধ্যায় স্পেনের রাজা ও রানির পাশাপাশি অন্য বিজয়ীদের সঙ্গে নৈশভোজেও অংশ নেবেন মেসি।
আজ শুক্রবার বিকালে ওবিয়েদোর কাম্পোয়ামোর থিয়েটারে আনুষ্ঠানিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন মেসি। বর্ণাঢ্য ক্রীড়া ক্যারিয়ারের পাশাপাশি বিশ্বের সবচেয়ে অসহায় শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তার অঙ্গীকারের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।
এই সম্মাননা পেয়ে আবেগাপ্লুত মেসি স্মরণ করেছেন প্রয়াত বাবাকে। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি খুব খুশি। আসলে, এই পুরস্কার নিয়ে আমার বাবা খুবই রোমাঞ্চিত ছিলেন। আমার অনেক ম্যাচের কারণে এখানে আসা কঠিন হবে, সেটা আমরা জানতাম। কিন্তু বাবা বারবার জোর দিচ্ছিলেন, যেন আমরা আসি এবং আমি এখানে এসে এই কটাদিন কাটাই ও পুরস্কারটি গ্রহণ করি।’
মেসি আরও বলেন, ‘একজন মানুষ মাঠে যা করে, কিংবা পেশাদার ক্যারিয়ারে আমি যা করেছি, এই পুরস্কার তার চেয়েও বেশি কিছুর স্বীকৃতি। সত্যি বলতে, আমি এই স্বীকৃতি পেলে তিনি খুব খুশি হতেন। তাই আমি নিশ্চিত, তিনিও এখনও এটি উপভোগ করছেন।’
বার্সেলোনায় দীর্ঘ ক্যারিয়ার কাটানো মেসির স্পেনে ফেরা মানেই ভক্তদের জন্য উৎসব। আর্জেন্টিনা ও বার্সেলোনার জার্সি হাতে হোটেলের সামনে জড়ো হওয়া ভক্তদের ভিড়ে সেই আবেগই ধরা পড়েছে।
অনুষ্ঠান শেষ করেই নিউইয়র্কের উদ্দেশে বিমানে উঠবেন মেসি। সেখানে শনিবার মেজর লিগ সকারে নিউইয়র্ক রেড বুলসের বিপক্ষে খেলবে তার ক্লাব ইন্টার মায়ামি। ফলে পুরস্কারের আনন্দের পরপরই আবার মাঠের লড়াইয়ে ফিরতে হচ্ছে আর্জেন্টাইন তারকাকে।
সব মিলিয়ে ওবিয়েদো সফর মেসির জন্য শুধু একটি পুরস্কার গ্রহণের ঘটনা নয় — প্রয়াত বাবার ইচ্ছা পূরণ, ভক্তদের ভালোবাসা আর মাঠের বাইরের অবদানের স্বীকৃতি মিলিয়ে এটি হয়ে উঠেছে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম আবেগঘন অধ্যায়।





