…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › কৃষি › খবর
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — আবদুল কুদ্দুস, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ
কৃষি

পঞ্চগড়ে চারটি লাউ এক টাকায়: ভালো ফলনেও পুঁজি হারানোর শঙ্কায় চাষিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

পঞ্চগড়ে লাউচাষিরা এবার ভীষণ সংকটে পড়েছেন। সবজিটির এমন দরপতন হয়েছে যে লাউ বাজারেই তুলতে গেলে চাষিদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে। জেলার আটোয়ারী উপজেলায় চারটি লাউ মাত্র এক টাকায় বিক্রি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আটোয়ারী উপজেলার তোরেয়ার লাউচাষি আবদুল কাদের বৃহস্পতিবার জানান, ১০০ টাকা অটোরিকশা ভাড়া দিয়ে লাউ বাজারে নিয়ে তিনি বিক্রি করেছেন মাত্র ১২০ টাকা। পরিবহন খরচ বাদে তাঁর হাতে থাকল মাত্র ২০ টাকা। তাঁর আক্ষেপ, এমনটা জানলে তিনি লাউ বাজারে আনতেন না।

শুধু কাদের নন, পঞ্চগড়ের প্রায় সব লাউচাষির এখন একই অবস্থা। বাজারে দাম না পেয়ে অনেকে খেত থেকে লাউ তুলছেনই না, কেউ কেউ আবার ফসলের পরিচর্যাও বন্ধ করে দিয়েছেন।

আটোয়ারী উপজেলার লাউ ব্যবসায়ী সাজ্জাত হোসেন জানান, পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে লাউ সংগ্রহ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। তবে এবার দাম কম থাকায় ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়েছেন। লাউ সংগ্রহ, শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন খরচ মিটিয়ে লাভ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সারা দেশ থেকে লাউ যাচ্ছে ঢাকায়। সরবরাহ বেশি হওয়ায় সেখানে দাম পড়ে গেছে, আর সেই ধাক্কা এসে লেগেছে পঞ্চগড়ের চাষিদের ঘাড়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পঞ্চগড়ের বিভিন্ন উপজেলায় এবার লাউয়ের ভালো ফলন হয়েছে, তবু কৃষকের মুখে হাসি নেই। কারণ অবিশ্বাস্য দরপতন: এক টাকায় বিক্রি হচ্ছে চারটি লাউ।

হিসাব বলছে, প্রতি বিঘা জমিতে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে উৎপাদিত লাউ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩ থেকে ৫ হাজার টাকায়। অথচ আগের কয়েক বছর একই জমির লাউ বিক্রি করে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন কৃষকেরা।

বৃহস্পতিবার আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় লাউচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বিঘা জমিতে ৩ থেকে ৫ হাজার লাউ উৎপাদিত হয়। জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরিসহ উৎপাদন খরচ পড়ে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু বাজারে দাম না থাকায় উৎপাদন খরচের সামান্য অংশও উঠছে না।

মির্জাপুর ইউনিয়নের লাউচাষি দুলাল জানান, ভালো ফলন হলেও এবার বাজারে দাম নেই। এক টাকায় চারটি লাউ বিক্রি করতে হওয়ায় পুঁজি হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

লাউচাষি আবাস আলীর প্রশ্ন, পরিশ্রম করে ফসল ফলিয়েও যদি উৎপাদন খরচ না ওঠে, তাহলে কৃষক সংসার চালাবেন কীভাবে? কৃষকদের বাঁচাতে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে চাষিদের এই সংকটে প্রশাসনের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, তা জানা যায়নি।

ভালো ফলনের পরও দাম না পাওয়ার এই চিত্র কৃষকদের জন্য পুরোনো এক ঝুঁকির কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে: উৎপাদন বাড়লেই আয় বাড়ে না, বাজার ও সরবরাহের ভারসাম্য না থাকলে ফসলই গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়। পঞ্চগড়ের লাউচাষিরা এখন সেই বাস্তবতার মুখোমুখি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন — জাকির হোসেন, সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী, ৭ নং ওয়ার্ড, ৫ নং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়ন

কৃষি বিভাগের আরও খবর

কৃষি

সব সার কারখানা চালু করে ২২ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের লক্ষ্য সরকারের: বিসিআইসি চেয়ারম্যান

দেশের সবকটি সার কারখানার উৎপাদন চালুর মাধ্যমে ইউরিয়া সার আমদানি বাবদ ২২ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কেমি…

কৃষি

বৃষ্টির অভাবে পীরগঞ্জে ফেটে চৌচির আমনের খেত, সেচের খরচে দিশেহারা কৃষক

রংপুরের পীরগঞ্জে প্রচণ্ড গরম আর দীর্ঘদিনের বৃষ্টিহীনতায় আমন ধানের খেত নিয়ে মহাবিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিস্তীর্ণ …

কৃষি

রৌমারীতে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে এক সপ্তাহে বিলীন ১৭ পরিবারের ভিটেমাটি, কাঁচা ধান কাটছেন কৃষক

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত এক সপ্তাহে সুখেরবাতি ও খেদাইমারী গ্রামে অন্তত ১৭ পরিবারের…