মেঝের টাইলসের নিচে ড্রামের গোপন গোডাউন: রাজশাহীতে ৩৭০০ ট্যাপেন্টাডলসহ গ্রেপ্তার ২
রাজশাহীর কাটাখালীতে বাড়ির মেঝের টাইলসের নিচে বিশেষ কৌশলে তৈরি গোপন গোডাউনে মজুত রাখা হয়েছিল মাদক। সেই গোডাউন থেকে ৩ হাজার ৭০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির নগদ ১১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৬০ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। এ ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. আবুল কালাম আজাদ (৪৪) ও মো. মানিক ইসলাম (৪৪)। তাঁদের দুজনের বাড়িই রাজশাহীর কাটাখালী থানার এমাদপুর গ্রামে। পুলিশের দাবি, তাঁদের দুজনের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
আরএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী টিম ও কাটাখালী থানা পুলিশ যৌথভাবে এমাদপুর গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় ১ কেজি ৩০০ গ্রাম গাঁজা ও মাদক বিক্রির ৩ হাজার ২১০ টাকাসহ আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান মানিক ইসলাম।
পরে আজাদকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২২ অক্টোবর রাত দেড়টার দিকে মানিক ইসলামের বাড়িতে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালায় পুলিশ। আরএমপি কমিশনার মো. ফয়েজুল কবিরের নির্দেশনায় কাটাখালী থানার ওসির নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
বাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে মেঝের টাইলসের নিচে ড্রাম দিয়ে বিশেষ কৌশলে তৈরি একটি গোপন গোডাউন খুঁজে পান পুলিশ সদস্যরা। সেখানে ব্যাগে লুকিয়ে রাখা ছিল ৩ হাজার ৭০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট। এ ছাড়া নগদ ১১ লাখ ৬৩ হাজার ৯৬০ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। মানিক ইসলামের বাড়ি থেকেও মাদক উদ্ধারের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, মানিক ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ এবং রাজশাহীর বাঘা, বোয়ালিয়া ও মতিহার থানায় চারটি মাদক মামলা রয়েছে। এ ছাড়া কাটাখালী ও মতিহার থানায় পেনাল কোডে তিনটি এবং মতিহার থানায় একটি অস্ত্র মামলাসহ তাঁর বিরুদ্ধে মোট আটটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় আটটি মাদক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। অর্থাৎ গ্রেপ্তার দুজনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পরিচিত মাদক কারবারি বলে দাবি পুলিশের।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে কাটাখালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মেঝের নিচে ড্রাম বসিয়ে গোপন গোডাউন তৈরির মতো কৌশল মাদক কারবারিদের নতুন ধরনের আড়াল পদ্ধতির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ধরনের গোপন মজুত শনাক্তে গোয়েন্দা তথ্যের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে তাঁদের মত।





