হত্যাসহ সাত মামলার আসামি কিশোর গ্যাং নেতা ‘কেন্তা ফিরোজ’ মোহাম্মদপুরে গ্রেপ্তার
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলার আসামি ও কিশোর গ্যাং লিডার হিসেবে পরিচিত ফিরোজ ওরফে ‘কেন্তা ফিরোজ’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিনের একাধিক গুরুতর অভিযোগের তালিকা নিয়েই এই গ্রেপ্তারকে এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মোহাম্মদপুরের ফিউচার মডেল টাউনের ৫ নম্বর সড়কে আলমের গ্যারেজের পাশ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানেই তিনি পুলিশের হাতে ধরা পড়েন বলে জানা গেছে।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জুয়েল রানা। তিনি জানান, ‘কেন্তা ফিরোজ’-এর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি, মারামারি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলাসহ মোট সাতটি মামলা রয়েছে।
পুলিশের দেওয়া মামলার তালিকা অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতরটি ২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর দায়ের করা একটি হত্যা মামলা। ওই মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে—যা হত্যা এবং যৌথ অপরাধমূলক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের অভিযোগের ধারা।
এর ঠিক এক দিন আগে, ২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বরও তাঁর বিরুদ্ধে আরেকটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। পরপর দুই দিনে দুটি হত্যা মামলার আসামি হওয়ার বিষয়টি পুলিশের নথিতেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের ভয়াবহতা তুলে ধরে।
সাম্প্রতিকতম মামলাটি দায়ের হয় ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর। ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে মারামারি, অনধিকার প্রবেশ, চুরি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে। অর্থাৎ গ্রেপ্তারের প্রায় এক বছর আগপর্যন্তও তাঁর বিরুদ্ধে নতুন অপরাধের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
আগের মামলাগুলোর তালিকাও দীর্ঘ। ২০২০ সালের মে মাসে মারামারি, চুরি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। একই বছরের মার্চে দায়ের করা আরেকটি মামলায় মারামারি, হত্যাচেষ্টা, গুরুতর জখম ও চুরির অভিযোগ রয়েছে।
মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক। ২০১৮ সালের মার্চে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং ২০১৯ সালের মে মাসেও একই আইনে আরেকটি মামলা দায়ের হয়। ফলে ২০১৮ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় প্রতি বছরই কোনো না কোনো অভিযোগে তাঁর নামে মামলার রেকর্ড রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে তাঁকে কিশোর গ্যাং লিডার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাং-কেন্দ্রিক অপরাধ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এমন একজন অভিযুক্ত নেতার গ্রেপ্তারকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
গ্রেপ্তারের পর এখন তাঁর বিরুদ্ধে থাকা সাত মামলার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। দুটি হত্যা মামলাসহ এতগুলো মামলার আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় গতি আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন এলাকার মানুষ।





