অনাগরিক ভোটার খোঁজার ফেডারেল অভিযান বন্ধের নির্দেশ মার্কিন বিচারকের: নয়টি অঙ্গরাজ্যে ভোটার ভীতি প্রদর্শনের আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফেডারেল বিচারক দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে (ডিএইচএস) নয়টি অঙ্গরাজ্যে অনাগরিক ভোটার খুঁজে বের করার অভিযান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পরিচালিত এই অভিযান ভোটারদের ভয় দেখানোর শামিল বলে সমালোচকরা অভিযোগ করে আসছিলেন।
মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক আরাসেলি মার্তিনেজ-ওলগিন তাঁর রায়ে বলেছেন, এই তদন্তগুলো সম্ভবত ভোটাধিকার আইনের সেই বিধান লঙ্ঘন করে, যা ভোটারদের ভয় দেখানো নিষিদ্ধ করে। তিনি আরও বলেছেন, ডিএইচএস তাদের তদন্তে ত্রুটিপূর্ণ তথ্যের ওপর নির্ভর করে থাকতে পারে।
বিচারক তাঁর লিখিত মতামতে বলেছেন, এর ফলে ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জটিলতায় জড়িয়ে পড়ার বস্তুনিষ্ঠভাবে যুক্তিসংগত ভয় তৈরি হয়, যা নাগরিকদের নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগে অন্যদের উৎসাহিত বা সহায়তা করা থেকে ভয় পাইয়ে দেয়।’
এই নির্দেশ ক্যালিফোর্নিয়া, কানেকটিকাট, জর্জিয়া, মিসৌরি, নেভাদা, নিউইয়র্ক, পেনসিলভানিয়া, ওয়াশিংটন ও উইসকনসিন—এই নয়টি অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
ডিএইচএস ভোট জালিয়াতি করা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে এই অভিযানের প্রচার চালিয়ে আসছিল। কিছু স্থানীয় কার্যালয় সন্দেহভাজনদের দরজায় এজেন্টদের কড়া নাড়ার ছবিও প্রকাশ করেছে।
এই অভিযানগুলো এমন সময়ে চলছে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোট জালিয়াতির ঘটনাগুলোকে সামনে আনার চেষ্টা করছে।
তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি নির্বাচনী চক্রে জালিয়াতির কিছু নথিভুক্ত ঘটনা থাকলেও এমন বিচ্ছিন্ন ঘটনা অত্যন্ত বিরল। অনাগরিক ভোটাররা দেশের কোনো স্তরের কোনো নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছেন—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবারের রায়ের পর এক বিবৃতিতে ডিএইচএস বলেছে, তাদের তদন্তের লক্ষ্য ছিল ‘যেসব বিদেশি ভোট দিয়ে মার্কিন নাগরিকদের ভোটের মূল্য কমিয়ে দিচ্ছেন, তাদের সরিয়ে দেওয়া।’ বিভাগটি বলেছে, ‘যাঁদের আমরা মার্কিন নাগরিক বলে মনে করি, তাঁদের প্রশ্ন করা বা তদন্ত করার কোনো পরিকল্পনা আমাদের নেই।’
ডিএইচএসের এই প্রচেষ্টাকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছিল ক্যালিফোর্নিয়া নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন ও ন্যাশনাল নার্সেস ইউনাইটেড, সেই সঙ্গে ভোটো লাতিনো ফাউন্ডেশন, সান ফ্রান্সিসকো ও সান্তা ক্লারা কাউন্টি। মামলায় বলা হয়েছে, কিছু মার্কিন নাগরিক মনে করেছেন, তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁদের ভুলভাবে চিহ্নিত ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
এই গোষ্ঠীগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী একজন আইনজীবী বলেছেন, ‘শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল, ডিএইচএস খারাপ তথ্যের ওপর তাদের তালিকা তৈরি করেছে, কতবার ভুল হয়েছে তা কখনো যাচাই করেনি, আর নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে বেপরোয়াভাবে মানুষের বাড়িতে এজেন্ট পাঠিয়েছে।’
ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ল সেন্টারের গণতন্ত্র প্রতিরক্ষা বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক পরামর্শক বেনজামিন ফারলি বলেছেন, এই রায় মধ্যবর্তী ভোটের আগে ভোটারদের ভয় দেখানোর বিষয়ে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘গতকালের সিদ্ধান্ত এই নভেম্বরে ভোটারদের ভোটকেন্দ্র থেকে ভয় দেখিয়ে দূরে রাখার সরকারি প্রচেষ্টার স্পষ্ট নিন্দা, আর এটি মনে করিয়ে দেয় যে, বর্ণ, জন্মস্থান বা পরিবারের সদস্যদের জাতীয়তা নির্বিশেষে সব মার্কিন নাগরিকেরই ভীতিমুক্তভাবে আমেরিকান নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনো সশস্ত্র ফেডারেল এজেন্ট আমাদের ভোট দেওয়া থেকে থামাতে পারবে না।’
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকায় এই রায়ের ফলে নয়টি অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল অভিযান আপাতত থেমে গেল। তবে ভোটার তালিকা যাচাই ও জালিয়াতি প্রতিরোধ নিয়ে প্রশাসন ও ভোটাধিকার সংগঠনগুলোর আইনি লড়াই সামনের দিনগুলোতেও চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।





