কোয়ান্টিকোর কাছে ইও জিমা ভাস্কর্যে হাতুড়ি হামলা: এক মেরিন মূর্তির মাথা ভেঙে ফেলার অভিযোগে যুবক গ্রেফতার
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে মেরিন কর্পস ঘাঁটি কোয়ান্টিকোর কাছে অবস্থিত বিখ্যাত ইও জিমা ভাস্কর্যে হাতুড়ি দিয়ে হামলা চালিয়ে এক মেরিন সৈনিকের মূর্তির মাথা ভেঙে ফেলার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই হামলায় ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভটির কয়েক লাখ ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
প্রিন্স উইলিয়াম কাউন্টি পুলিশ জানায়, বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ১০টা ১৩ মিনিটের দিকে ভার্জিনিয়ার কোয়ান্টিকোতে রিচমন্ড হাইওয়ে ও ফুলার রোডের কাছে ভাস্কর্যটিতে ভাঙচুরের খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান।
পুলিশ অভিযুক্তকে শনাক্ত করেছে স্ট্যাফোর্ড, ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা মিগুয়েল আলোনসো মালদোনাদো সোরিয়ানো (২৭) হিসেবে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা পৌঁছানোর সময় তিনি হাতুড়ি দিয়ে স্মৃতিস্তম্ভটিতে আঘাত করছিলেন।
কর্মকর্তারা তাঁকে আটক ও গ্রেফতার করেন। তল্লাশিতে দেখা যায়, চুনাপাথরের তৈরি ভাস্কর্যটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভাস্কর্যটি আমেরিকান সামরিক ইতিহাসের সবচেয়ে পরিচিত মুহূর্তগুলোর একটির স্মারক।
ক্ষতির মধ্যে রয়েছে পতাকা উত্তোলনরত এক মেরিনের মাথা সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে ফেলা। এ ছাড়া পতাকা উত্তোলনের দৃশ্যে থাকা অন্য মূর্তিগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
পুলিশ জানায়, ডান দিকে সবচেয়ে দূরের মূর্তিটির মাথা নেই, আরেক মেরিনের হেলমেট ও মুখে গভীর আঁচড়ের দাগ দেখা গেছে। তৃতীয় একটি মূর্তির পিঠে ঝোলানো আগ্নেয়াস্ত্রের সঙ্গে যুক্ত বেয়োনেটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেরামতে কয়েক লাখ ডলার খরচ হবে বলে পুলিশের ধারণা।
মালদোনাদো সোরিয়ানোর বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে: গুরুতর সম্পত্তি ধ্বংস, সম্পত্তির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে অনধিকার প্রবেশ এবং স্মৃতিস্তম্ভে গুরুতর আঘাত করা। তিনি জামিন ছাড়াই আটক রয়েছেন, আর আদালতে হাজিরার তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
কর্তৃপক্ষ এই কথিত হামলার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য প্রকাশ করেনি, স্মৃতিস্তম্ভটি মেরামত করা যাবে কি না, তাও জানায়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত ভাস্কর্যটি ৯ ফুট উঁচু চুনাপাথরের তৈরি, যেখানে ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইও জিমা যুদ্ধে মাউন্ট সুরিবাচিতে পতাকা উত্তোলনের বিখ্যাত দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
ভাস্কর্যটি তৈরি করেছিলেন ফেলিক্স ডি ওয়েলডন, যিনি পরে ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে বিশাল ব্রোঞ্জের মেরিন কর্পস ওয়ার মেমোরিয়াল তৈরি করেন। এই ছোট স্মৃতিস্তম্ভটি মেরিন কর্পস ঘাঁটি কোয়ান্টিকোর প্রবেশপথের কাছে, ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব দ্য মেরিন কর্পসের কাছাকাছি অবস্থিত।
উত্তর ভার্জিনিয়ার কোয়ান্টিকো মেরিন কর্পসের একটি প্রধান স্থাপনা, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সামরিক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ২০০১ সালে এই স্থাপনার কিছু অংশ কোয়ান্টিকো মেরিন কর্পস বেস হিস্টোরিক ডিস্ট্রিক্ট হিসেবে ন্যাশনাল রেজিস্টার অব হিস্টোরিক প্লেসেসে অন্তর্ভুক্ত হয়, যেখানে ১২২টি ভবন, দুটি ল্যান্ডস্কেপ, একটি ভাস্কর্য ও একটি পানির টাওয়ার রয়েছে।
মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়ায় অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হবে। স্মৃতিস্তম্ভটির মেরামতের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে স্থানীয়রা।





